যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের প্রধান গেটের বিতর্কিত দেয়াললেখা মুছে সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লিখে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দাবি করেছে ছাত্রলীগের এক নেতা, যা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, সোমবার (রাতের কোনো এক সময়) হেলমেট পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি উপজেলা পরিষদের মূল গেটে এসে আগে লেখা ‘খুনি হাসিনা’ ও ‘হাসিনা ভুয়া’ কথাগুলো আংশিক মুছে দিয়ে তার ওপর কালো রঙে ‘জয় বাংলা’ লিখে যায়।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন বিকেলে উপজেলার ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি গেটের দক্ষিণ পাশে লাল কালি দিয়ে ‘খুনি হাসিনা’ এবং উত্তর পাশে ‘হাসিনা ভুয়া’ লিখে দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে লেখাগুলো অক্ষত ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক ঘটনায় ‘হাসিনা’ শব্দটি অপরিবর্তিত রেখে ‘খুনি’ ও ‘ভুয়া’ শব্দ কেটে তার ওপর নতুন করে ‘জয় বাংলা’ লেখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন চায়ের দোকান ও জনসমাগমস্থলে ব্যাপক আলোচনা হলেও সরাসরি কারা এ কাজে জড়িত তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল।
তবে এ ঘটনায় নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমডি সাগর হুসাইন সাগর তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে দায় স্বীকার করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল কবির বিপুল ফারাজীর নির্দেশনা এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ হোসেনের নেতৃত্বে ‘কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য’ অপসারণ করে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান লেখা হয়েছে।
পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিওও শেয়ার করা হয়, যেখানে দেখা যায়—একজন ব্যক্তি হেলমেট পরে স্প্রে দিয়ে লেখা পরিবর্তন করছেন এবং অন্য একজন তাকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। পরবর্তীতে ভিডিওসহ পোস্টটি আশরাফুল কবির বিপুল ফারাজী তার নিজস্ব ফেসবুক পেজ থেকেও শেয়ার করেন।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভুপালী সরকার জানান, “ঘটনার বিষয়ে আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং প্রশাসনের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন সচেতন মহল।