বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদ আবাসিক এলাকায় এবার সাংবাদিকের বাসায় দরজার হ্যাসবোর্ড কেটে নগদ টাকা, রৌপ্যর অলঙ্কারসহ পুরনো ধাতব মুদ্রা চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার ১১দিন পার হলেও পুলিশ চুরির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পারেননি। গত ১৩ মার্চ সকাল ১০টা থেকে পৌনে ১১টার মধ্যে এ চুরির ঘটনা ঘটে। যমুনা ভবনের নিচতলায় এ বাসায় বসবাস করেন যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক লোকসমাজের সাংবাদিক ও সহকারি অধ্যাপক প্রদীপ বিশ্বাস। চুরির ঘটনায় বাঘারপাড়া থানায় প্রথমে অভিযোগ ও পরে তা নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ডভূক্ত হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেও এর আগে অনেকবার চুরির ঘটনা ঘটলেও কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেননি পুলিশ প্রশাসন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯মার্চ বাসা তালাবদ্ধ করে সাংবাদিক প্রদীপ বিশ্বাস স্বপরিবারে কলেজের শিক্ষাসফরে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। বাসায় কেউ না থাকায় ১৩ মার্চ সকাল ১০টা থেকে পৌনে ১১টার মধ্যে চোরেরা দরজার হ্যাসবোর্ড কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ওয়ারড্রয়ারের তালা ভেঙ্গে ১০ভরি ওজনের রূপার অলঙ্কার, কিছু ইমিটেশনের অলঙ্কার, ১২টি পুরনো মুদ্রা ও নগদ ২০হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
প্রদীপ বিশ্বাস জানান, ১২শ, ১৭শ ও ১৯শতকের মুদ্রাগুলো ছিলো ব্রোঞ্জ, তামা ও রূপার। যেগুলো আমার শ্বশুরের কালেকশান। এর জন্য কষ্ট হচ্ছে বেশী। এগুলো উদ্ধারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে গত ৭মার্চ পরিষদের পদ্মা ভবনে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খালেদা পারভিনের বাসা, ২০১৩ সালে মেঘনা ভবনে এবং ২০১৮ সালে বেতনা ভবনে চুরির ঘটনা ঘটে। সেসময় থানায় এ নিয়ে অভিযোগও দেওয়া হয়। কিন্তু চোর সনাক্তে পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়াও গত ২১মার্চ পরিষদের একটি ভবনে দুস্কৃতকারীর আগুনে কিঙ্কর বিশ্বাসের বাসার সিঁড়ি কক্ষে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভুপালী সরকার বলেন, উপজেলা পরিষদে দুটো পকেটগেটসহ পাঁচটি গেট আছে। জনস্বার্থে সবকটি গেটই প্রয়োজনিয়। একই সাথে কোয়ার্টারে অবস্থানরত অফিসারদের স্বার্থ দেখার দায়িত্বও নির্বাহী অফিসারের। তাই সবার সাথে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, পরিষদে অনাকাঙ্খিত ঘটনা কিভাবে বন্ধ করা যায়। তিনি আরও বলেন, চুরির বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চুরি ও আগুনের বিষয় তদন্ত চলছে।