বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের ভিটাবল্যাহ বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুললেও অপর পক্ষ দাবি করছে, অফিসের সংস্কার কাজকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করে দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এলোমেলো করে দেওয়া হয় এবং জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের টানানো ছবিও ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জামদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেন বলেন, ভিটাবল্যাহ বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম খোকনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি কার্যালয়ে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়টি পরিদর্শন করেন। অভিযোগকারী পক্ষের নেতাকর্মীরা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, দলীয় কার্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এমন ঘটনা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম খোকন। তিনি বলেন, “কার্যালয়ে কোনো ধরনের ভাঙচুর হয়নি। ভবনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ার কারণে অফিসটির সংস্কার ও মেরামতের কাজ চলছিল। বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভাঙচুর হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।”
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কার্যালয়টিতে সম্প্রতি সংস্কার কাজ পরিচালিত হয়েছে। অফিসের পাশের চায়ের দোকানদার ইকবাল হোসেন, ওয়ালটন শোরুমের মালিক সান, জামদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মুন্তাজ আলী ফকির এবং ইউপি সদস্য ও জামদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, অফিসটিতে এসি স্থাপন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ করা হয়েছে। তারা বলেন, “অফিসটিতে কোনো ভাঙচুর হয়নি। সংস্কার কাজকে ভাঙচুর হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহীন মোল্যা, জামদিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক, ব্যবসায়ী ইয়াসিন আরাফাত এবং বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তুরান হোসেন। তারাও ভাঙচুরের অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে অফিসে সংস্কার কাজ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং, সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তার এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণকে কেন্দ্র করেই এ অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলেও তারা মনে করেন।
এদিকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের কারণে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্কেরও অবসান ঘটবে।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা। ঘটনাটি নিয়ে বাঘারপাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।