বদরুজ্জামান ভূঁইয়া, হোসেনপুর কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের থাই জানালা, বিদ্যুতের তার, এসির তারসহ মূল্যবান মালামাল চুরির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে গভীর রাতে চুরির ঘটনা বেশি ঘটলেও এখন সন্ধ্যার পর থেকেই চোর ও ছিনতাইকারীদের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের বাসাবাড়িও নিরাপত্তার বাইরে থাকছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে।
এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দৈনিক ভোরের কাগজের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হারিছ আহম্মদ পেশাগত কাজে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের বাসায় যান। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান শেষে বাইরে এসে তিনি দেখতে পান, তাঁর নতুন মোটরসাইকেলটি আর সেখানে নেই। মোটরসাইকেলটি চুরির এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে একজন সাংবাদিক পেশাগত কাজে গিয়ে এমন ঘটনার শিকার হন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?
স্থানীয়দের মতে, শুধু পুলিশি তৎপরতার ওপর নির্ভর না করে চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, রাতের পাশাপাশি সন্ধ্যার পর টহল জোরদার এবং চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিচারিক প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ বিভিন্ন সময়ে চুরির ঘটনায় অভিযুক্তদের আটক করে আদালতে পাঠালেও কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে জামিন পাওয়া মানেই কেউ অপরাধী, এমনটি নয়; প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আইন ও আদালতের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে আইনজীবী সমাজের প্রতিও সচেতন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আইনজীবীরা অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনগত অধিকার রক্ষায় কাজ করবেন, এটি তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিশোরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী সমাজ ও সচেতন নাগরিকেরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। শুধু আশ্বাস নয়, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই কিশোরগঞ্জ শহর ও শহরতলীতে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রকাশ ও সম্পাদক: মোঃ শহিদুল ইসলাম, ঠিকানাঃ চৌরাস্তা মোড় বাঘারপাড়া যশোর। মোবাইল : ০১৬১৫৪৩২৬২৩
𝐄𝐦𝐚𝐢𝐥: 𝐜𝐡𝐢𝐭𝐫𝐚𝐫𝐩𝐚𝐫@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত