আবু রায়হান, মণিরামপুর(যশোর):
যশোরের মণিরামপুরে নদী থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধর ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদালিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রে*প্তা*র করা হয়।
গত ৭ নভেম্বর সকালে মণিরামপুর থানা এলাকায় নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রঞ্জন নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের খবর পায় পুলিশ। খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নির্দেশনায় পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ রঞ্জনের চলাফেরা ও যাতায়াতের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। তার বাড়ির এলাকার একটি বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রঞ্জন পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধরের চেম্বারে যাওয়ার পর আর ফিরে আসেননি।
এরপর পুলিশ মিঠুনকে খুঁজতে তার চেম্বার ও বাড়িতে অভিযান চালায়। কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, মিঠুন ধর সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদালিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালিয়ে মিঠুন ধর ও তাকে পালাতে সহায়তাকারী আব্দুল হান্নান গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত রঞ্জনের সঙ্গে মিঠুন ধরের ভালো সম্পর্ক ছিল। তারা একসঙ্গে চলাফেরা ও ওঠাবসা করতেন। তাদের মধ্যে অর্থনৈতিক কোনো লেনদেন বা আর্থিক লোভ-লালসা থেকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার মিঠুন ধরকে আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি থাকলে তাদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।
এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রকাশ ও সম্পাদক: মোঃ শহিদুল ইসলাম, ঠিকানাঃ চৌরাস্তা মোড় বাঘারপাড়া যশোর। মোবাইল : ০১৬১৫৪৩২৬২৩
𝐄𝐦𝐚𝐢𝐥: 𝐜𝐡𝐢𝐭𝐫𝐚𝐫𝐩𝐚𝐫@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত