ছক্কা হাঁকিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করল মাহমুদউল্লাহ

0
111

নিদাহাস ট্রফির ১৬০ রানের চ্যােলেঞ্জ স্কোরের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ছক্কা মেরে ফাইনাল নিশ্চিত করল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। হাতে দুই উইকেট রেখে জয়ের বন্দরে পৌছে যায় বাংলাদেশ।

মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ ১৮ বলে ৪৩ রানের অসাধারণ ইংনিংস খেলে দলকে ফাইনালে তুলে নেন। ৪৩ রানের ইনিংসে রয়েছে ৩ টি চার ও ২ টি ছক্কার মার।

এদিকে শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১২ রান। টান টান উত্তেজনা। দ্বিতীয় বলে রানআউট হয়ে গেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। স্ট্রাইকে থাকার কথা মাহমুদউল্লাহর। কিন্তু আম্পায়ার তাকে স্ট্রাইকে দেবেন। এ নিয়ে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান মাহমুদউল্লাহ আর রুবেলকে উঠে আসতে বললেন।

আম্পায়ার আর ম্যাচ রেফারিসহ অন্য কর্মকর্তারা থামালেন। স্ট্রাইকে থাকলেন মাহমুদউল্লাহই। তৃতীয় বলেই মারলেন বাউন্ডারি। চতুর্থ বলে দুই রান। আর প্রয়োজন ৬ রান। পঞ্চম বলে ইসুরু আদানাকে ছক্কা মেরেই বাংলাদেশকে ২ উইকেটের ব্যবধানে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ভারতের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার ৭০তম জাতীয় দিবসের টুর্নামেন্ট নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠে গেলো বাংলাদেশ।

খেলার ‍শুরুতে সাজঘরে ফিরেন লিটন দাস। টাইগার এ ব্যাটসম্যান ৩ বল খেলে শূন্যরানে আউট হন। এরপর সাব্বির রহমান বোকার মতো আউট হলেন। মাঝখানে বাংলাদেশের হাল ধরেন তামিম ও মুশফিকুর রহিম। এই দুজনেই বিদায় নিলে হারের শঙ্কা জেগে ওঠেছে টাইগারদের।

তামিম ইকবাল ৪২ বলে ৫০আর মুশফিকুর রহীম ২৫ বলে ২৮ রান করে আউট হন।

এর আগে আকিলা ধনঞ্জয়া বলটা ওয়াইডের কাছাকাছি জায়গায় ফেলেছিলেন। বোকার মতো তাতেই ব্যাট চালিয়ে দিলেন লিটন দাস। মিডঅফে পেরেরার ক্যাচ হয়ে ৩ বলে শুন্য রান করেই ফিরেছেন ডানহাতি এই ওপেনার।

এরপর ধনঞ্জয়া বোকা বানিয়েছেন বাংলাদেশের আরেক ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমানকে। তার বলে এগিয়ে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার সাব্বির। ৮ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৩ রান করেন তিনি।

এর আগে, দুই পেরেরা- কুশল আর থিসারার বিধ্বংসী হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে ৭ উইকেটে ১৫৯ রানের পুঁজি গড়ে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টসে জিতে ফিল্ডিং বেছে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। চোট কাটিয়ে ফেরা সাকিব এই ম্যাচে বোলিং উদ্বোধন করেছেন।

প্রথম ওভারে মাত্র ৩ রান দেয়ার পর নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে উইকেটও তুলে নিয়েছেন সাকিব। তার ঘূর্ণি বল উপরে তুলে মারতে গিয়ে সাব্বির রহমানের ক্যাচ হয়ে ফিরেছেন দানুষ্কা গুনাথিলাকা (৪)।

এরপর কুশল মেন্ডিসকেও ভয়ংকর হতে দেননি মোস্তাফিজুর রহমান। তার বাঁহাতি কাটারে সৌম্য সরকারের ক্যাচ হয়ে মেন্ডিস ফিরেছেন মাত্র ১১ রান করে।

পরের ওভারে এসে উপুল থারাঙ্গা (৫) রানআউট হয়েছেন। ওই ওভারেই শুন্য রানে দাসুন শানাকাকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়েছেন মোস্তাফিজ। মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হয়ে ৩ রান করে ফিরেছেন জীবন মেন্ডিসও।

৪১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকতে থাকা দলকে এরপর টেনে নেয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন দুই পেরেরা-কুশল আর থিসারা। ষষ্ঠ উইকেটে তারা গড়েছেন ৯৭ রানের বিধ্বংসী এক জুটি। এই জুটিতে ভর করেই লঙ্কানরা লড়াই করার পুঁজি পেয়েছে।

কুশল পেরেরা তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের দশম হাফসেঞ্চুরি। ৪০ বলে ৬১ রান করে সৌম্য সরকারের শিকার হন এই ব্যাটসম্যান। ৩৬ বলে ৫৮ রান করে ইনিংসের শেষ ওভারে রুবেলের বলে আউট হয়েছেন থিসারা পেরেরা।

বাংলাদেশের পক্ষে ২টি উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান। তবে তিনি বেশ খরুচে ছিলেন। বাঁহাতি এই পেসার ৪ ওভারে দিয়েছেন ৩৯ রান।