শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আপাতত স্থগিত রাখা উচিত : ইলিয়াস কাঞ্চন

0
79

সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় সহপাঠী হারানোর শোকে-দুঃখে-ক্ষোভে এক সপ্তাহ ধরে রাজপথ দখল করে রেখেছে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা গড়ে তুলেছে দুর্বার আন্দোলন। সরকারের প্রতি ৯ দফা দাবি জানিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

দাবানলের মতো তাদের সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশেও। বাধ্য হয়ে সরকার দাবি মেনে নিয়েছে, দাবি বাস্তবায়নের জন্য নিয়েছে নানা উদ্যোগ। এ অবস্থায় বিশিষ্টজনরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দুই যুগ আগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিল আমার স্ত্রী। প্রিয়জন হারানোর ব্যথা আমি বুঝতে পারি। সেই শোক বুকে চেপে আমি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছি। গড়ে তুলেছি নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) নামের সংগঠন। সংগঠনটির ব্যানারেও নানা কর্মসূচি যেমন পালিত হচ্ছে, তেমনি নিজ উদ্যোগেও নিরাপদ সড়কের দাবিতে নানা কাজ করছি। নিরাপদ সড়কের দাবিটি আমাদের শিক্ষার্থীরা উপলব্ধি করতে পেরেছে। তারা যখন আন্দোলনে নেমেছে, ব্যক্তিগতভাবে আমি খুশিই হয়েছি। কেননা তাদের দাবি তো আমার প্রাণের দাবিই। শিক্ষার্থীরা প্রাথমিকভাবে আন্দোলনে সফল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সব দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আপাতত স্থগিত রাখা উচিত।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলব, তোমাদের দাবির সঙ্গে দেশের প্রতিটি মানুষের সমর্থন রয়েছে। কারণ নিরাপদ সড়কের দাবি এখন মানুষের প্রাণের দাবি। সরকারও তোমাদের দাবি মেনে নিয়েছে। কিছু উদ্যোগ ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে। এখন শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরতে হবে, ক্লাসরুমে ফিরতে হবে। তোমাদের দাবি যদি যথাযথভাবে পূরণ না হয়, তোমরা আবার রাজপথে নামবে। তখন তোমাদের সঙ্গে আমিও রাজপথে নামব, আন্দোলন করব।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, দু-চার দিনেই সব পাল্টে যাবে না। এর জন্য কিছু সময় দিতে হবে। নিরাপদ সড়কের জন্য অনেক বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। কঠোর আইন যেমন দরকার, তেমনি এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় চালকরাই শুধু দায়ী নন। সচেতন হতে হবে সবাইকে। ওভারটেক, ওভারস্পিড যেমন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তেমনি ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। উল্টো পথে গাড়ি চালানো পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রত্যেক যাত্রীরও সচেতন হতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাব, তারা নিরাপদ সড়কের দাবিটি মানুষের প্রাণের দাবিতে রূপান্তর করেছে। এক সপ্তাহ ধরে তারা লাগাতার আন্দোলন করছে। অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, সড়কে কত নৈরাজ্য রয়েছে, কত বিশৃঙ্খলা রয়েছে। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও টনক নড়েছে।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, শিক্ষার্থীদের বলব, এবার ঘরে ফেরো। ক্লাসরুমে ফেরো। কেননা এখন আমি শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিন্তিত। তাদের নিয়ে শুরু হয়েছে নোংরা রাজনীতি। রাজনীতিবিদরা কতটা অমানবিক হতে পারে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজনীতি করতে পারে, সেটা ভাবতেও ঘৃণা হয়। চারদিকে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে সুযোগসন্ধানীরাও। শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেশ চিন্তা হচ্ছে আমার। তাই বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের এবার ঘরে ফেরা উচিত। সরকার যদি দাবিগুলো বাস্তবায়ন না করে, তাহলে আবার আমরা রাজপথে নামব।