ভ্রাম্যমাণ অটো রাইস মিল আঙিনায় ধান ছাটাইয়ে খুশি কৃষক

0
792

শোরের মণিরামপুরে বিল্লাল হোসেনের উদ্ভাবিত ধান ছাটাইয়ের মেশিনে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে এখন ভ্রাম্যমাণ অটোরাইস মিলে পরিণত হয়েছে। এখন ঘন্টায় ৮০মণ ধান ছাটাই হচ্ছে তার মেশিনে। এরফলে একদিকে সময়ের অপচয় হচ্ছে কম; সাশ্রয় হচ্ছে অর্থের। বাড়ির উঠানেই কৃষক-কৃষানী নিজেদের মত করে ধান ছাটাইয়ের পর চাল ঘরে তুলছেন। এভাবে গৃহস্থের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেশিন দিয়ে ধান মাড়াই করে দিচ্ছেন বিল্লাল। ইতোমধ্যে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশেষ কায়দায় ধান মাড়াইয়ের ইঞ্জিন বানিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছেন বিল্লাল হোসেন।
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত তাজপুর গ্রামের চাঁদ আলী মেকানিকের ছেলে বিল্লাল হোসেন। এসএসসি পাশ করে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে ২০০৭ সালে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সেখানে থাকা অবস্থায় বিল্লালের পিতা মারা যান। বাড়ি ফিরে হতাশায় পড়েন কি করে সংসার চালাবেন। দেশে থাকতে বাবার গ্যারেজে কাজ করার সুবাদে পেট্রোল ও ডিজেল চালিত গাড়ির ইঞ্জিনের কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল তার। নেমে পড়েন গ্যারেজে ইঞ্জিনের কাজে। তখন থেকেই সহজ উপায়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ নিয়ে ভাবনা পেয়ে বসে তাকে। কয়েক মাস চেষ্টা চালিয়ে ২০১৫ সালের শেষের দিকে সফল হন বিল্লাল। পরের বছর থেকে তার উদ্ভাবিত মেশিন দিয়ে কয়েক গ্রামের গৃহস্থ পরিবার ধান ছাটাইয়ের কাজ করে।
সরেজমিন তাজপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় বিল্লালের নিজস্ব প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত ধান ছাটাইয়ের মেশিনে কাজ চলছে একই গ্রামের রবিউল ইসলাম রবির বাড়িতে। এসময় কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, কয়েক মাস ঘুরে ঘুরে যশোরের লোহাপট্টি থেকে গাড়ির পুরাতন যন্ত্রাংশ কিনে এই ধান ছাটাইয়ের মেশিন বানিয়েছেন। তার মেশিনটি এখন প্রতিদিনি প্রায় ১ হাজার মণ ধান ছাটাইয়ের কাজ হয়। প্রতি মন ধান ছাটাইয়ের বিনিময়ে তিনি গৃহস্থের কাছ থেকে ৩৫ টাকা নিয়ে থাকেন। তার কাজে সহযোগিতার জন্য সার্বক্ষণিক ২ জন লোক রয়েছে। প্রথম দিকে এই কাজ করতে গিয়ে তাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। রাইচ মিল মালিকদের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজন তাকে হয়রানি করত। যে কারণে পরে তিনি অনুমোদন নিয়েছেন। এর আগে আমন মৌসুমে তিনি লক্কড়-ঝক্কড় ট্রাক্টরে বিশেষ কায়দায় ইঞ্জিন বসিয়ে ধান ছাটাইয়ের মেশিন বানিয়েছিলেন। এই মেশিনে ঘন্টায় ২০ মণ ধান ছাটাই করা যেত।
এ নিয়ে ওই সময় সমাজের কথায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই সময় বিল্লাল এ প্রতিবেদককে বলেছিলেন, আগামী বোরো মৌসুমে তিনি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অটোরাইস মিল বানাবেন। কঠোর পরিশ্রম আর গবেষণা করে ঠিকই তিনি কথা রাখতে পেরেছেন। এখন তিনি আরো প্রযুক্তি ও অর্থ বিনিয়োগ করে ভ্রাম্যমাণ অটোরাইস মিল বানিয়েছেন। এই মেশিনে এখন ঘন্টায় ৮০ মণ ধান ছাটাইয়ের কাজ হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এক প্রশ্নের জবাবে বিল্লাল দাবি করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জ্বালানি ছাড়াই অটোরাইস মিল বানাতে পারবেন তিনি।
বিল্লালের ভ্রাম্যমাণ ধান ছাটাইয়ের মেশিনে তাজপুর, গোয়ালবাড়ি, ডুমুরখালি, দশআনি, মুক্তারপুরসহ কয়েক গ্রামের মানুষ খুবই উপকৃত হচ্ছেন। ডুমুরখালি গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মণ প্রতি ধান মাড়াই করতে পরিবহন ও রাইচ মিলে খরচ হতো ৫০ টাকা। রবিউল ইসলাম বলেন, রাইচ মিলে গেলে বিদ্যুৎ চলে গেলে বসে থাকতে হয়। এই মেশিনের সুবাদে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সময়ের অপচয় হচ্ছে কম।
গৃহবধূ রেহেনা, সাবিহা বেগমসহ অনেকে বলেন, রাইচ মিলে ধান মাড়াইয়ের পর বাড়িতে আনার পর আবার ঝাড়তে হয়। কিন্তু এই মেশিনে উৎপাদিত চালে কিছুই থাকে না।
বিল্লাল জানান, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে বিনা জ্বালানিতে ধান ছাটাইয়ের মেশিনসহ কৃষি উপযোগী যন্ত্র আবিস্কার করতে পারবেন বলে তিনি দাবি করেন।