স্থায়ী আশ্রয়ে সুফিয়া পাগলি

0
102

মোঃ যোবায়ের হোসেন বারোবাজার থেকেঃ একগাল হাসি আর অবাক চাহনির আর এক নাম সুফিয়া পাগলি। সুফিয়ার খুব সরলতা আর এলাকাবাসির ভালোবাসায় সুফিয়া নামের সাথে যোগ হয় পাগলি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পড়ে পাওয়া সুফিয়া পাগলির আশ্রয় মিলেছে যশোরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে। যুদ্ধের সময়ের ০৪ মাসের শিশু কখনো স্বরসতী কখনও সুফিয়া পাগলি নামে পরিচিত ছিলো। ৪৬ বছর ধরে আপনজনের ঠিকানা না পেয়ে  নিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতৃবৃন্দ গত রোববার বিকালে যশোরের রোটারি কেনায়েত আলী ও আনোয়ারা বেগম ওল্ড হোমে তাকে ‘পুর্নবাসন’ করেন।
১৯৭১-সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর যশোরের বারোবাজারের রেললাইনের পাশে কাঁদছিল ০৪ মাস বয়সী এক শিশু। বাদেডিহি গ্রামের চায়ের দোকানদার বানছারাম পালের হৃদয় কেঁদেছিল শিশুটির কান্নায়। তিনি উদ্ধার করে বাড়ি এনে নিজের ধর্মের হিসেবে নাম রেখেছিলেন স্বরসতী। দেশ স্বাধীন হলে বানছারাম পাল তার বোন যশোদা রানির কোলে তুলে দেন স্বরসতীকে। তিনি ৫ বছর লালন পালন করেন। স্বরসতী মা বলে ডাকতেন যশোদাকে। কিন্তু অভাবের সংসার হওয়ায় বানছারাম-যশোদারা শেষ পর্যন্ত স্বরসতীকে নিজেদের ঘরে রাখেননি। তারা প্রতিবেশী ইদু জোয়াদ্দারের স্ত্রী আছিয়াকে স্বরসতীকে দিয়ে দেন। এরপর স্বরসতী থেকে হয়ে যান সুফিয়া। এ পরিবারেও ৫ বছর মতো লালন-পালন হন সুফিয়া। ২০ বছর বয়সে তিনি নিজেকে জানতে শিখলে পিতামাতার সন্ধান ও আপনজনদের খুঁজতে থাকেন। কিন্তু কে তার পিতামাতা কি তার বংশ পরিচয় কিছুই জানতে পারে না।
এক পর্যায়ে সুফিয়া বারোবাজারের ডা. তাহেরের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে কিছুদিন থাকার পর একই এলাকার মিঠাপুকুর গ্রামের মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে অবস্থান করেন। এখান থেকেই তার আপনজনদের খোঁজ করতে করতে হাফিয়ে উঠেন। কিন্তু খোঁজের শেষ আজও হয়নি। এখন তার শরীরে বয়সের ভার চলে এসেছে। স্থায়ী ঠিকানার বিকল্প নেই। এ প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই এগিয়ে আসে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহরিয়ার কবির গত ৭ মে যশোর এলে তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এরই অংশ হিসেবে এ নারীকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যশোর শাখার সভাপতি হারুণ-অর-রশিদ জানান, ১৯৭১ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্টে পাক আর্মি অবস্থান করে নিরীহ মানুষের উপর নির্মম নির্যাতন চালায়। এছাড়া বারোবাজারে ছিল রাজাকার ক্যাম্প। সেখানেও নারী-পুরুষ ধরে অমানবিক অত্যাচার করা হয়েছে। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে হাজার হাজার মানুষ সহায় সম্বল ফেলে ভারতে আশ্রয় নেয়। সেসময় শরণার্থীদের লক্ষ্য করেও গুলি ছোঁড়ে হানাদার বাহিনী। স্বরসতী বা সুফিয়ার পিতামাতা সেই নির্যাতনের শিকার হতে পারে। দীর্ঘ ৪৬ বছর পর হলেও সর্বহারা এ নারীর জন্য কিছু করতে পেরে ভাল লাগছে।
এ ব্যাপারে ৯নং ইউনিয়ন চেয়্যারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন সুফিয়ার একটা স্থায়ী ব্যাবস্থা করতে পেরে ভালো লাগছে।
এ ব্যাপারে সুফিয়ার এক সময়ের আশ্রয়দান কারী জোয়ার্দার পরিবারের সদস্য এবং ৯নং বারোবাজার ইউপি সদস্য স্বপন জোয়ার্দার জানান সুফিয়াকে খুব ছোট থেকে আমার বাবা মা লালন পালন করেছে তাদের মৃত্যুর পর আমরা এখনো ছুটে যায়। সুফিয়া খুব ভালো মনের মানূষ সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। তাকে আমরা মিস করলেও তার একটা ভালো ব্যাবস্থা করতে পেরে ভালো লাগছে।