শেষ শয্যায় শায়িত হলেন বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি।

0
25

শনিবার দুপুর ২টায় কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা পরিষদ মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যদা জানানো ও জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারামন বিবির ছেলে আবু তাহের।

এ সময় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, জেলার পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, সিভিল সার্জন ডা.আমিনুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকু, রাজিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শফিউল আলম, নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হাই সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শুক্রবার রাত ১টা ২৭ মিনিটে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কাচারীপাড়ার নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

তারামন বিবির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরপর দু’বার যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ায় তার দু’টি ফুসফুসই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসনালীর প্রদাহজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। এ অবস্থায় গত ৮ নভেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে তারামন বিবিকে প্রথমে ময়মনসিংহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেদিনই বিকেলে হেলিকপ্টারযোগে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। এ অবস্থায় তিনি সেখানে থাকতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় বন্ড স্বাক্ষর করে গত ২২ নভেম্বর তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। এখানে শুক্রবার রাতে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১ টা ২৭ মিনিটে মারা যান।

কুড়িগ্রামের শংকর মাধবপুরে ১১ নম্বর সেক্টরে কমান্ডার আবু তাহেরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তারামন বিবি। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকিস্তানিদের খবর সংগ্রহের পাশাপাশি অস্ত্র হাতে সম্মুখ যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত দু’জন নারীর মধ্যে একজন হচ্ছেন তারামন বিবি। এই খেতাব প্রাপ্তির কথা দীর্ঘ ২৫ বছর জানতে পারেননি তিনি। ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিমল কান্তি দে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান আলী এবং রাজিবপুর কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সবুর ফারুকীর সহায়তায় তাকে খুঁজে বের করেন। এরপর ১৯৯৫ সালের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বীর প্রতীক খেতাবের পদক তুলে দেওয়া হয় তার হাতে।