পদ্মা নামে ফারমার্স ব্যাংকের নতুন যাত্রা

0
148

গ্রাহকদের জন্য ‘নিরাপদ ব্যাংক’ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ‘পদ্মা ব্যাংক’ নাম দিয়ে ফের যাত্রা শুরু করল ‘ফারমার্স ব্যাংক’। শনিবার রাজধানীর একটি বিলাশবহুল হোটেলে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পদ্মা ব্যাংকের লোগো উন্মোচন করা হয়।

ফারমার্স ব্যাংক নামে ছয় বছর আগে যাত্রা শুরুর পর থেকে ধুঁকতে থাকলে বেসরকারি এই ব্যাংকটিকে পতনের হাত থেকে বাঁচাতে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংক ও আইসিবি অংশীদার হয়ে পাশে দাঁড়ায়। এর ধারাবাহিকতায় নাম বদলে নতুন রূপে যাত্রা শুরু করল ব্যাংকটি। ব্যাংকটির মূলধনের ৬৮ শতাংশ জোগান দিচ্ছে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ব্যাংক এবং আইসিবি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লা আল মাসুদ, জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম আজাদ, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস উল ইসলাম, রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হক।

পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ব্যবসায় জগতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরাও আমন্ত্রিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, ‘শক্তিমান বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে একটি দুর্নীতিপরায়ন দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার চক্রান্ত করেছিল। কিন্তু সেই মঞ্চেই আমরা সারা পৃথিবীর সামনে দুর্নীতিমুক্ত বলে প্রমাণ করেছি। পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছিল। এখন সেই পদ্মার নামে ব্যাংক করছেন। তাই পদ্মার সেই কথা স্মরণ করে পদ্মা ব্যাংককেও গ্রাহকদের কাছে দুর্নীতিমুক্ত বলে প্রমাণ করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রায় সব ব্যাংকেই টাকার অভাব, পুঁজির অভাব। সরকারের টাকা দিয়েই সেই অভাব পূরণ করতে হচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে সম্পদের অভাব নেই।  এর ব্যবহার নেই বলেই সেটা বাইরে নিয়ে যায়। সেই সম্পদগুলো আমাদের ব্যবহার করা উচিত। তাহলে আমাদের ব্যবহারযোগ্য-বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ অনেক বাড়বে।

পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহসান খসরু ‘নিরাপদ ব্যাংক’ হিসেবে পদ্মা ব্যাংককে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা ফারমার্স ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে অত্যন্ত বদনামের মুখে পড়েছিলাম। এখন সরকারের অন্যান্য ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে সফলতার নতুন রাস্তায় উঠতে নাম পরিবর্তন করে কার্যক্রম শুরু করেছি। আমরা আমাদের আমানতকারী ও শেয়ার হোল্ডারদের নিরাপদ সফল ব্যাংকিংয়ের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। একইসঙ্গে আমি আগামী এ বছরের মধ্যে আমাদের মন্দ ঋণ ৪০ শতাংশে নামিয়ে আসবে বলে আশা করছি।’