বাঘারপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার তিনমাস পর হত্যা প্রচেষ্টার মিথ্যা মামলায় এলাকায় চাঞ্চল্য

0
414

স্টাফ ররিপোর্টার,বাঘারপাড়া(যশোর)ঃ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয় এক শিক্ষার্থী। তিনমাস পর ঐ শিক্ষার্থীর মা আদালতে মামলা করেছেন তার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্য মারপিট করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় এজাহার নামীয় মূল আসামীকে না পেয়ে অন্যকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যর সৃস্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি বাঘারপাড়ার বাগডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র সাইফুল ইসলাম মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়। সাইফুল কিসমত বাসুয়াড়ির সফিকুল ইসলাম ওরফে খোকন মোড়লের ছেলে। এদিন বেলা তিনটার দিকে ঐ বিদ্যালয়ের নিকটে মোস্তফা ফকিরের বাড়ির পাশে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাগডাঙ্গা গ্রামের ওমর আলী গাজীর ছেলে গাজী আসাদ জানিয়েছেন, সাইফুল বেপরোয়া গতিতে মটর সাইকেল চালাচ্ছিলো। মেস্তাফা ফকিরের বাড়ির সোজা এসেই একটি নারিকেল গাছের সাথে ধাক্কা খায়। এরপর সংজ্ঞাহীন সাইফুলকে আমি ও মোস্তফা ফকির উদ্ধার করে ঘোষনগর বাজারে গ্রাম্য চিকিৎসক আলাউদ্দীনের দোকানে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরতর হওয়ায় তাকে অভয়নগর সাস্থ্য কমপোলক্্ের পাঠানো হয়। দূর্ঘটনার পর সেখানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, দপ্তরিসহ অনেকেই দুর্ঘঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। অথচ এ ঘটনাটিকে মিথ্যা সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য মারামারির ঘটনা উল্ল্খে করে তিন মাস পর আদালতে মামলা করেছে সাইফুলের মা বিউটি বেগম।
মামলার বাদি সাইফুলের মা বিউটি বেগম ৩০ এপ্রিল যশোর আমলী আদলতে মামলা করেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রহমান অভিযোগ অনয়ন করে বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইন-চার্জকে এফআইআর হিসাবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। বাঘারপাড়া থানায় বিষয়টি গত ৫ মে মামলা হিসাবে রেকর্ড করে। মামলা নং ৪। মামলায় বাদি উল্লেখ করেন ২ ফেব্রুয়ারি তার ছেলে সাইফুল মোটর সাইকেল যোগে বাগডাঙ্গায় দওয়াত খেতে যাচ্ছিলো। বেলা একটার দিকে পরিকল্পিতভাবে তার প্রতিবেশি পুড়া খালেকের ছেলে সাহাদৎ মোড়ল, জাহিদ মোড়ল, সাহাজান মোড়ল ও তার ছেলে আলমঙ্গীর মোড়ল, জামায় সহিদ হত্যার উদ্দেশ্য সাইফুলকে মারপিট করে।
বাসুয়াড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলায় বিউটি বেগম যে ঘটনা উল্লেখ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাইফুল সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। যার প্রথ্যাক্ষদর্শী বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এলাকার হাজার মানুষ বিষয়টি জানে। পুলিশ তদন্ত করলেই আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে। সাইফুল অভয়নগর হাসপাতালে ভর্তীর দিন পর বাড়িতে চলে আসে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হিসাবে সাইফুল হাসপাতালে ভর্তি হয়। সাইফুল বাড়িতে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে আমিসহ এলাকার কয়েকজন আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে তাকে গত ২৭ এপ্রিল ঢাকায় পাঠায়। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে আসে। এরপর একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে প্রতিবেশিদের ফাঁসাতে মামলা করেছে।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্র সূত্রে জানাগেছে, সাইফুল সেখানে ৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৬ টা ২০ মিনিটে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নেয়। তখনকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। যার রেজি নং(জঃ বি) ৯৮৭/৩১ ও (আঃ বি) ৭৪৫। সাইফুল পুরুষ ৯ নং ওয়ার্ডের ১২ নং সিটে চারদিন অবস্থান করে ৬ ফেব্রুয়ারি ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। প্রাথমিক ও ভর্তি রেজিষ্টারসহ রোগী ভর্তির টিকেটে স্পষ্ট উল্লেখ আসে সাইফুল সড়ক দুর্ঘটনায় (আরটিএ) আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
বাগডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা জানিয়েছেন, সাইফুল স্কুলের সামনেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। অনেকেই বিষয়টি জানে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করলেই সত্যটা জানতে পারবে।
অন্যদিকে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ মামলা রেকর্ডের দিন রাতে চারজনকে আটক করে পরদিন আদালতে পাঠায়। আটককৃতরা হলেন সাঈদ মোড়ল, শাহাজাহান মোড়ল, আলমঙ্গীর মোড়ল ও জামায় সহিদ। মামলার এজাহারে সাঈদ মোড়লের নাম নেই। অথচ পুলিশ তাকে আদালতে পাঠিয়েছে। গত ৮ মে সকলেই জামিনে মুক্তি পেয়েছে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা বাঘারপাড়া থানার এসআই আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, সাঈদ মোড়ল গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিজেকে সাহদৎ মোড়ল হিসাবে পরিচয় দিয়েছে।
বাগডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন মোল্যা জানিয়েছেন, মামলার বাদি ও বিবাদিদের মধ্যে জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। যে কারণে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা করেছে। সাইফুল মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। বিষয়টি দিনের মত পরিস্কার। আমাদের দাবি পুলিশ দ্রুত ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক।