সুখের আশায় বিদেশ যেয়ে লাশ হয়ে ফিরলো খাজুরার বাকের

0
51

সুখের আশায় সন্তানদের মুখে হাসি ফুঁটাতে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলো বাকের আলী। আট মাস পর লাশ হয়ে ফিরতে হলো তাকে। নিহত বাকের যশোর জেলার খাজুরার দর্গাহপুর গ্রামের ইউনুচ আলীর ছেলে। বিদেশ যাওয়ার সময় সে স্ত্রী, ১ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তানকে রেখে গিয়েছিলো। সে মালয়েশিয়ার পেনাং শহরের খেজুরের ফ্যাক্টরীতে মালামাল লোড আনলোডের কাজ করতো।

বাকেরের স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেন ২মাস হলো না তাদের একমাত্র ছেলে তন্ময় পানিতে ডুবে মারা গেল। সে শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতে স্বামীকে হারাতো হলো তার। এখন সে কি নিয়ে বাঁচবে, কি হবে তার, আগামী দিনগুলো একমাত্র মেয়েকে নিয়ে কি করবে সে? এমনও হাজারো প্রশ্ন তার। পুত্র ও স্বামী হারানোর শোকে হতভিম্বল নিহত বাকেরের স্ত্রী। লোন, ধার-কর্জ নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলো বাকের। সে গুলো শোধ করা তো হলোই না। ঈদ করতে চেয়েছিল স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে তাও হলো না। এখন শুধু শোকের মাতম চলছে নিহত বাকেরের টিন ও বাঁশের বেড়ার ছোট্ট কুঠিরে।

ছোট মেয়েটি লাশের কাছে গিয়ে বাবাকে ডেকে বলছে বাবা আর ঘুমিও না। আমার চকলেট, খেলনা নিয়ে এসেছো না সেগুলো দাও। স্ত্রী ও মেয়ের এই করুন আহাজারিতে ওই গ্রামের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এলাকার সকলের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার (১১এপ্রিল) সকালে বাকেরের লাশ তার গ্রামের বাড়ীতে পোঁছালে শতশত লোক ভীড় জমায় তাকে শেষ দেখা দেখতে। গত ৫ মে কর্মস্থল মালয়েশিয়ায় খেজুরের ফ্যাক্টরীতে কাজ করার সময় প্রায় তিন টন ওজনের মালের বিশাল লাট তার গায়ের উপর চাপা পড়লে সে ঘটনাস্থলে মারা যায়। শনিবার ভোরে তার লাশ গ্রামের বাড়ীতে পৌঁছায়। বেলা ১১টায় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.