তিন লাখ শুন্যপদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ

0
115

সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তিন লাখেরও বেশি শুন্যপদ রয়েছে। এসব শুন্যপদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়।

রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় এ নির্দেশ দেয়া হয়। বৈঠকে অংশ নেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৬৬ জন সচিব। বৈঠকের শেষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কয়েকজন সচিব সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর ও সংস্থায় শুন্যপদে দ্রুত নিয়োগের জন্য শুন্যপদের তথ্য এবং পদ পূরণের জন্য কর্মপরিকল্পনা চাওয়া হয়।

গত ৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত চিঠি সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর ও সংস্থায় পাঠানো হয়।

এ ছাড়া ২০১৭ সালের সচিব সভায় শুন্যপদ দ্রুত পূরণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারণে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় শুন্যপদ পূরণে প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নে প্রত্যেক সচিবকে তাগিদ দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ড. মো. শামসুল আরেফিন জানান, সচিব সভায় শুন্যপদ পূরণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তাই শূন্যপদগুলোতে দ্রুত চাকরি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও গবেষণা সেলের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে ২০ লাখ ৫০ হাজার ৮৬১ পদের মধ্যে শুন্য রয়েছে তিন লাখ ৯৯ হাজার ৮৯৭টি।

এসব শুন্যপদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির পদ রয়েছে ৪৮ হাজার ৭৯৩, দ্বিতীয় শ্রেণির ৬৫ হাজার ৮৩, তৃতীয় শ্রেণির ২ লাখ ৬ হাজার ৭৬০ এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ৭৯ হাজার ২৬১টি।

এর মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি পদে প্রায় ৫০ হাজার অস্থায়ী ভিত্তিতে (অ্যাডহক) নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া শুন্যপদের মধ্যে পুলিশে ৫০ হাজার লোক নিয়োগ দেয়া হবে। এ ছাড়া আনসার-ভিডিপি, বিজিবি ও দমকলসহ বিভিন্ন বাহিনীতে নিয়োগ দেয়া হবে ৫ হাজার লোক।

দেশের শিক্ষা খাতকে ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন পদে প্রায় ৫০ হাজার লোক নিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে ৫৯৭ সরকারি কলেজে প্রভাষকের প্রায় ৫ হাজার পদ শুন্য রয়েছে।

৪১ তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার কলেজগুলোরও শুন্যপদ পূরণ করা হবে। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে প্রায় ২৫ হাজার।

এরই মধ্যে ১০ হাজার শুন্যপদের বিপরীতে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান। বাকি ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগে শিগগিরই সার্কুলার দেয়া হবে।

এ ছাড়া পিয়ন ও দফতর পদে প্রায় ৫ হাজার লোক নিয়োগ দেয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা নিয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে সরকারের।

আবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির জন্য সুপারিশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। সেই হিসেবে আরো ৬৩ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি হবে। এদিকে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৪০ হাজার ৮৯টি পদ শুন্য রয়েছে।

দেশের ব্যাংক সেক্টরেও চলতি বছরের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার লোক নিয়োগ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। শিগগিরই বিভিন্ন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া ব্যাংকের বিভিন্ন পদে আরো পাঁচ হাজার লোক নেবে বলে জানা গেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও রেলওয়েতে ৬০ হাজার পদ শুন্য রয়েছে। এসব পদ পূরণের জন্য নিয়োগ দেবে সরকার।

এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সমাজসেবা অধিদফতর, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতর, ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরসহ বিভিন্ন পদে ৫০ হাজার লোক নিয়োগ করা হবে।