উত্তরবঙ্গের চার জেলা সফর করলেন মিলার

0
50

 

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার ২৩- ২৫ জুন উত্তরবঙ্গের চার জেলা বগুড়া, রংপুর, লালমনিরহাট ও দিনাজপুর সফর করেছেন। সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করেন এবং দু’দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক অংশীদারত্বের বিষয়েও সমর্থন চান।

বুধবার (২৬ জুন) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত মিলার বগুড়ার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় ‘উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার’ হিসেবে বগুড়ার সামাজিক-সাংস্কৃতিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয় অর্থনীতি ও শিক্ষাখাতসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্ধিত সহযোগিতার সম্ভাব্য খাতগুলো নিয়েও কথা বলেন তারা।

রংপুরে রাষ্ট্রদূত মিলার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসায় বিনিয়োগসহ সহযোগিতা বাড়ানো যায় এমন বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত জোইক্ক্য কৃষক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং নারী ও শিশুসহ গ্রামীণ ক্ষুদ্র পর্যায়ের কৃষকরা বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তাকে এগিয়ে নিতে কীভাবে ভূমিকা রাখছে তা সচক্ষে দেখেন।

রাষ্ট্রদূত জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় যে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-সাংস্কৃতিক ভূমিকা রাখছে তা নিয়ে কথা বলেন তারা।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনী ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তৃতীয় যৌথ মহড়া ‘প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল’ পরিদর্শন করতে লালমনিরহাট সফর করেন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার। এ মহড়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগকালীন ত্রাণ এবং সিভিল-মিলিটারি অপারেশন। মিলার স্থানীয় কদমতলা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনীর কর্মীরা স্থানীয় জনগণের ওষুধপত্র বিতরণ ও ফিজিক্যাল থেরাপি, দাঁত ও চোখের সমস্যার সেবা দেন। রাষ্ট্রদূত ফকিরের টোকেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ও পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যে পাঁচটি স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে প্লাম্বিং, বৈদ্যুতিক ও কাঠামোগত উন্নয়নসহ সংস্কারকাজ চলছে ফকিরের টোকেয়া সেগুলোর একটি।

মিলার ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রাম (আইভিএলপি) এবং কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি (ওয়াইইএস) প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে দেখা করেন। এই অ্যালামনাইরা এক্সচেঞ্জ কর্মসূচিতে অর্জিত শিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগাচ্ছেন তিনি তা শোনেন। দুই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারীরা যেসব ক্ষেত্রে কাজ করছেন তার মধ্যে রয়েছে বহুত্ববাদ, সুশাসন, মানবাধিকার ও শিক্ষা।

উত্তরবঙ্গ সফরে রাষ্ট্রদূত মিলার মহাস্থানগড়, কান্তজিউ মন্দির ও তাজহাট প্রাসাদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানও পরিদর্শন করেন। এ সফর তাকে আবারো বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং এর জনগণের সবার জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের গুরুত্বের কথাটি মনে করিয়ে দেয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.