মেয়ের হত্যাকারীদের দেখে জ্ঞান হারালেন নুসরাতের মা

0
85

ফেনীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাহসহ হত্যাকারীদের আদালতের কাঠগড়ায় দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়ে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। এ সময় কোর্ট পুলিশের সহায়তায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান তাকে ফেনী হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে যান। বুধবার (১০ জুলাই ) দুপুর আড়াইটার দিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এ ঘটনা ঘটে ।

আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিলানী মজুমদার জানান, আদালতে সকাল ১১টায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তারে সাক্ষ্য শুরু হয়। পরে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত জেরা অনুষ্ঠিত হয়। জেরা শেষে আদালতের এজলাশ থেকে শিরিন আক্তার বের হওয়ার সময় তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী বলেন, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এখন তিনি সুস্থ্য আছেন। জেরা শেষে আদালতের এজলাশ থেকে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বের হওয়া সময় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। চিকিৎসকরা বলেছে অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও ডায়াবেটিকস সুগার নিল হওয়ায় তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এই মামলার ১৪ নম্বর শেখ আব্দুল হালিম মামুন, ১৫ নং মো আবু ইউসুফের সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

নুসরাতের মামলার আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু বলেন, নুসরাতে মা শিরিন আক্তার সাক্ষ্যদান কালে আদালতে বলেন, ২৭ মার্চ নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতকে যৌন হয়রানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। এ ঘটনায় পুলিশ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। মামলার কারণে আগুনে পুড়িয়ে নুসরাতকে হত্যা করার জন্য শাহদাত হোসেন শামীম, নুর উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, নির্দেশ দেয় সিরাজ উদ দৌলা। তারা সবাই মিলে আমার নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।

বাদীর আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু জানায়, নুসরাতের মায়ের সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাহ আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন খান নয়ন ও আহসান কবির বেঙ্গল তাকে জেরা করেন। জেরায় আইজীবীদ্ধয় বলেন, আপনার মেয়ে পড়াশুনা বাদ দিয়ে প্রেম করত, অন্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করত এই জন্য (নুসরাত) তাকে শাসন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আপনি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং সরাসরি না বলে জবাব দেন। এই সময় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামি কামরুন নাহার মনি ও উম্মে সুলতানা পপিকে উদ্দেশ্য করে নুসরাতের মা বলেন, তোমাদেরকে আমি নুসরাতের মতই মনে করতাম। এরপরও তোমরা আমার নুসরাতকে এত নির্মমভাবে আগুনে পুড়ে খুন করলে। এই জন্য আমি তোমাদের কঠিন বিচার দেখতে যাব।

এর আগে সকাল ১০টায় কঠোর নিরাপত্তায় মামলার প্রধান আসামি সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ আসামিকে কারাগার থেকে বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়।

প্রসঙ্গত, সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান ওরফে রাফিকে ৬ এপ্রিল গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ ও পিবিআই এই মামলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

২৭ মার্চ নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতকে যৌন হয়রানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। এ ঘটনায় নুসরাতের মা বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। ওই মামলা তুলে না নেয়ার কারণে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় নুসরাতকে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.