বিয়ের পরও নিয়মিত নয়নের কাছে আসত মিন্নি : বন্ডের মা

0
64

রিফাত হত্যার আগের দিনও মিন্নি আমাদের বাসায় এসে নয়নের সঙ্গে দেখা করে। আমার ছেলে তো মারাই গেছে। আমার তো আর মিথ্যা বলার কিছু নেই। মিন্নি যে আমাদের বাসায় গিয়েছিল তা আমার প্রতিবেশীরাও দেখেছে। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও মিন্নি নিয়মিত আমাদের বাসায় এসে নয়নের সঙ্গে দেখা করত। মোটরসাইকেলে মিন্নিকে রিফাত শরীফ কলেজে নামিয়ে দিয়ে চলে যেত। এরপর মিন্নি আমাদের বাসায় চলে আসত। আবার কলেজের ক্লাস শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে মিন্নি আমাদের বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে যেত।’

এসব কথা জানিয়েছেন রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি এবং পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়ন বন্ডের মা শাহিদা বেগম।

তিনি বলেন, রিফাতের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের খবর পাওয়ার পর আমি আমার ছেলেকে অনেক নিষেধ করেছি, যোগাযোগ না রাখতে। কিন্তু আমার ছেলে নয়ন কখনও আমার কথা শুনত না। ওর মনে যা চাইতো ও তা-ই করত। নয়ন যদি আমার কথা শুনত তাহলে এমন নির্মম ঘটনা ঘটত না।

রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও নিয়মিত নয়ন বন্ডের বাসায় আসা-যাওয়া এবং হত্যাকাণ্ডের আগের দিনও নয়ন বন্ডের বাসায় যাওয়ার বিষয়ে শনিবার (১৩ জুলাই) মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের ফোনে কল দিয়ে মিন্নির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, মিন্নি অসুস্থ। গতকাল তাকে ডাক্তার দেখানো হয়েছে। মিন্নি এখন ঘুমাচ্ছে। তাই মিন্নি কথা বলতে পারবে না।

এছাড়া মিন্নির সঙ্গে কথা বলতে হলে বরগুনা জেলা পুলিশের অনুমতি লাগবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, বরগুনায় প্রকাশ্য রাস্তায় স্ত্রীর সামনে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। এ হত্যামামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। মামলার দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রিমান্ডে অনেক অজানা তথ্য জানাচ্ছে সে। গুঞ্জন চলছে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে খুন করা রিফাত ফরাজীর ফাসি হবে তো? নাকি আইনের ফাঁক গলে, বিলম্বিত বিচারব্যবস্থায় অন্য অনেক অপরাধীর মতো বেঁচে যাবে সেও? এই যখন অবস্থা তখন রিফাত হত্যার সাথে স্ত্রী মিন্নি জড়িত বলে গুঞ্জন উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

৬ জুলাই রিফাত হত্যার আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিওতে মিন্নির বডিল্যাংগুয়েজ দেখেই তার ভূমিকা সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা।

সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে জোড়পূর্বক ধরে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। তাদের পেছনে, বেশ খানিকটা দূরত্ব রেখে খুব ক্র‍্যাজুয়াল ঢংয়ে হেটে যাচ্ছেন রিফাতের স্ত্রী মিন্নি। রিফাতকে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী মিলে কোপাতে শুরু করলে মিন্নি গিয়ে তাদেরকে থামানোর চেষ্টা করেন। মিন্নি নয়নকে পেছন থেকে বেশ কয়েকবার টেনে থামানোর চেষ্টা করেন। নয়ন তাতে ক্ষ্যান্ত হন না। তবে এ সময় তিনি মিন্নিকে কোনো রকম আঘাত বা সামান্য ধাক্কাও দেন না। ঘটনার শেষ দিকে মিন্নি নয়নকে টেনে থামাতে চেষ্টার একপর্যায়ে নয়ন বীরদর্পে হেঁটে স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় মিন্নির বিশেষ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পাওয়া যায় না। তিনি বেশ স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে যাওয়া নয়নের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

এ সময় আহত রিফাত স্ত্রীর দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে, স্ত্রীর নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনো দুশিন্তা না করে সোজা হেটে চলে যান। মিন্নি তখন নিজের স্যান্ডেল রাস্তা থেকে কুরিয়ে পরেন। তারপর স্থান ত্যাগ করেন।

ভিডিওর এ দৃশ্য দেখে নেটিজেনরা মিন্নির আচরণ ও শরীরি ভাষাকে সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

তারা মন্তব্য করেন, ভিডিওর শুরুতে রিফাতকে জোরপূর্বক ধরে নেয়ার সময় প্রতিক্রিয়াহীন মিন্নিকে দেখে মনে হচ্ছিল সে যেন আগে থেকেই বিষটি সম্পর্কে অবগত ছিল।

আহত রিফাত যখন স্থান ত্যাগ করে চলে যান তখনও মিন্নিকে বিচলিত দেখা যায় না। বরং তিনি ধীরেসুস্থে স্যান্ডেল খুঁজে পায়ে দেয়ার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন। যা খুবই আশ্চর্যজনক। এ সময় রিফাত শরীফও স্ত্রী মিন্নির খোঁজ না করে আহত শরীরে একাই স্থান ত্যাগে উদ্যত হন। তবে কি তিনি এই ঘটনার নেপথ্যে প্রিয়তমা স্ত্রী জড়িত বলে সন্দেহ করছিলেন? তা না হলে শত্রুদের মাঝে নিজের স্ত্রীকে ফেলে যাওয়ার আগে তিনি মিন্নির নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতেন।

এমন মন্তব্য করছেন অনেক নেটিজেনরাই। তবে সন্দেহকারী নেটিজেনদের প্রশ্ন ও যুক্তির বিপক্ষে আরেক দল নেটিজেন বড় করে দেখছেন মিন্নির জীবন বাজি রেখে নয়ন বন্ডদের থামানোর আপ্রাণ চেষ্টাকেই।

উল্লেখ্য, রিফাত হত্যাকাণ্ডের পরের দিন রিফাতের বাবা আবদুর হালিম শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে এবং ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। এখন পর্যন্ত মামলায় ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া মামলার আসামি নয়ন বন্ড গ্রেপ্তারের পর পুলিশের সঙ্গে ক্রসফায়ারে নিহত হন।

অলিউল্লাহ, তানভীরসহ অন্যরা জবানবন্দিতে বলেছেন, এই হামলায় বন্ড ০০৭ গ্রুপের অন্তত ২০ জন ছোট দলে ভাগ হয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। হামলার সময় পথচারী বা রিফাত শরীফের দলের কেউ যেন এগিয়ে আসতে না পারে, তা সামলানোর দায়িত্ব ছিল একটি দলের। হামলার পর সবাই যেন বিনা বাধায় পালাতে পারে তা নিশ্চিতে পাহারায় ছিল আরেকটি পক্ষ।

এই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী এবং রিফাতের ছোট ভাই রিশান ফরাজী।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.