ঘরবাড়ি নির্মাণে উপজেলাভিত্তিক মাস্টার প্ল্যান করতে হবে

0
31

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃষিজমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে জমি নষ্ট করা একটা বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। কৃষিজমি রক্ষার জন্য একটা নীতিমালা বা মাস্টার প্ল্যান থাকা দরকার। এখন অনেকের টাকা-পয়সা হয়েছে। যে যেখানে খুশি দালান-কোঠা তুলছেন। যত্রতত্র বাড়িঘর ও দালান-কোঠা নির্মাণ করলে পরে তাদের নাগরিক সুবিধা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।

শনিবার (১৩ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহের ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। এছাড়া জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ও বিদ্যুৎ সচিব আহমদ কায়কাউস বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজের উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের একটা ভৌগোলিক সীমারেখা আছে। তাছাড়া এ দেশে জনসংখ্যাও অধিক। আমরা এ দেশের মানুষকে একটি সুন্দর ও চমৎকার জীবন দিতে চাই। উন্নয়নটা শুধু শহরকেন্দ্রিক হলেই চলবে না, তৃণমূল থেকে যদি উন্নয়ন করতে না পারি তাহলে আমাদের সাফল্য আসবে না। তা না হলে অহেতুক রাজধানীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, গ্রাম থেকে শহরে আসার প্রবণতা এটা যেমন বন্ধ করতে হবে আবার গ্রামীণ কর্মসংস্থান অর্থনৈতিক সুবিধা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। যেন গ্রামে বসেই একজন মানুষ শহরের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পায়। আমার গ্রাম আমার শহর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই প্রায় পাঁচ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার পুরো বাংলাদেশের তৈরি করে দিয়েছিলাম। ওখানে বসেই যেন তারা কম্পিউটার শিক্ষা, অনলাইন সুযোগ সুবিধা নিতে পারে। সেই সাথে ব্রডব্যান্ড প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে পৌঁছে গেছে। আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি, এর মাধ্যমে গ্রামের মানুষ আরও বেশি ইন্টারনেট সুবিধা পাবে।

শেখ হাসিনা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সারাদিন খেটেখুটে কাজ করে দুর্নীতির কারণে যদি সব নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেটা খুব দুঃখজনক। তবে দুর্নীতির ক্ষেত্রে কেউ ঘুষ নিলেই সে অপরাধী তা নয়, যে ঘুষ দেয় সেও অপরাধী। এ ধরনের অপরাধ দমন করতে হবে। ঘুষ দুর্নীতি চলতে থাকলে সমাজের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ বিশ্বব্যাপী একটি বড় সমস্যা। জঙ্গিবাদকে দমনের জন্য আমরা কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। অনেকটা সফলও হয়েছি। এটা অনেকটা নিয়ন্ত্রণও করতে পারছি। এর সফলতা আমাদের ধরে রাখতে হবে। সাথে সাথে আমাদের উন্নয়নটা যেন বাধাগ্রস্ত না হয় এজন্য নিম্নস্তর পর্যন্ত সতর্ক রাখতে হবে। এ নির্দেশনা আপনারাই (সচিব) দেবেন। কাজের প্রতি আপনাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.