এরিককে পেতে প্রয়োজনে রাজপথে নামব: বিদিশা

0
63

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে আবারো টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদ।  এরশাদের অসুস্থতার সময় থেকে মৃত্যুর পরে পর্যন্ত নিজের নানা স্মৃতি, ভয় ও আশঙ্কার কথা জানিয়ে সরব থেকেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।  এরশাদ, জাতীয় পার্টি, নিজের ছেলে এরিককে নিয়ে মানবকণ্ঠের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন বিদিশা এরশাদ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আরিফুল ইসলাম সাব্বির

এরশাদের স্মৃতিচারণ করে নিজের সন্তান এরিককে নিয়ে বিদিশা বলেন, এরশাদ এরিকের খেলার সাথী ছিলেন।  তাকে মুখ মুছিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে খাইয়ে দেয়া, ঘুম পাড়ানো সবই তিনি নিজে করতেন।  এরশাদ যখন অসুস্থ হন তখন এরিক ভেবেছিল তার বাবা এমনিতে হাসপাতালে গেছে।  কিছুক্ষণ পর ফিরে আসবে।  কিন্তু তার বাবা আর ফেরেনি।  সে এখনও হতভম্ব।  অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কিন্তু আমি তার কাছে যেতে পারছি না।  এসময় ছেলের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এসময় রওশন এরশাদের কাছে তার ছেলে নিরাপদ উল্লেখ করে বিদিশা বলেন, বড় ম্যাডামের কাছে আমার ছেলে নিরাপদ। তিনি এরিককে নিজের সন্তানের মতই দেখেন। তবে এরশাদ যেমন করে এরিকের কেয়ার করত তেমন কেয়ারের জন্যে তার মায়ের প্রয়োজন। এরশাদের অবর্তমানে আমিই তার অভিভাবক। আমি তাই এরিককে নিজের কাছে রাখতে চাই।

এরিককে পেতে প্রয়োজনে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি প্রকাশ করে তিনি বলেন, এরশাদের কুলখানির সময় পর্যন্ত পার্টির সবাই অনেক ব্যস্ত।  তবে আমি কাজের লোকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি।  তারা কিছু বলছে না।  আমি ছেলেকে ফিরে পেতে নিজের মত করে ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজনে রাজপথে নামব।  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে অনশনে বসব।

যাপার রাজনীতিতে ফিরবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি রাজনীতি শিখেছি এরশাদের কাছে।  তখন এমন খারাপ রাজনীতি বুঝতাম না।  শুধু বুঝতাম কিভাবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশতে হয়।  তাদের থেকে দূরত্ব কমাতে হয়।  আমার সাবেক স্বামী আমাকে তাই-ই শিখিয়েছে।  আমি জাপার প্রেসিডিয়ামে ছিলাম। তারপর বিএনপির খারাপ রাজনীতির কারণে আমাকে পার্টি ছাড়তে হয়েছে।  কিন্তু কর্মীদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নষ্ট হয় নি।  তারা বিভিন্ন প্রয়োজনে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।  তারাই আমাকে বলেছে আমার সঙ্গে সেসময় এরশাদের দূরত্বের কারণ বিএনপি। তারা আমাকে বুঝিয়েছে সবসময়।

বিদিশা বলেন, জাতীয় পার্টিতে এখন অনেকেই আসতে চায়।  আমার সঙ্গে অনেকে যোগাযোগ করছেন।  অনেকে আমাকে বলেন, আপা আপনি রাজনীতিতে আসেন।  আপনি সক্রিয় হোন, আমরা আপনার সঙ্গে রাজনীতি করতে চাই।  আগে যখন রাজনীতিতে ছিলাম, তখন অনেক কিছু বুঝতাম না।  এখন অনেক কিছুই শিখেছি।

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক এই স্ত্রী বলেন, জাতীয় পার্টিতে তো এখন আমি সেভাবে নেই।  যখন আমি ছিলাম তখন সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করেছি।  আমি সবাইকে একসাথে সমন্বয় করেছি।  বিএনপির রোষানলে পড়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হয়েছে আমাকে।  আমার সঙ্গে জেল জুলুম অত্যাচার সবই হয়েছে।  প্রায় ১০ বছর সক্রিয় না থাকলেও আামি সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছি।

এরশাদের কবর প্রসঙ্গে বিদিশা বলেন, ২০০২ এর দিকেই এরশাদ আমাকে বলেছিলেন তার মৃত্যুর পর যেন তাকে ছেলের মালিকানার বাড়ি পল্লিনিবাসে কবর দেয়া হয়।  ছেলেকে খুব ভালবাসতেন এরশাদ।  আমি তখন মৃত্যুর বিষয় নিয়ে ভাবিইনি।  এরশাদ মারা যাবার আগে থেকেই রংপুরের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়মিত।  মারা যাবার পর আমি জানিয়েছি এরশাদের সেই পুরনো ইচ্ছার কথা।  তারপর তো নেতাকর্মীদের ভালবাসারই বিজয় হল।

এরশাদের ফাঁকা আসনে নির্বাচন করবেন কিনা প্রশ্নে বিদিশা বলেন, এখনই এসব কিছু ভাবছি না।  তবে সময় হলে ভাবব।

এরশাদের সম্পদে কোন মোহ নেই জানিয়ে বিদিশা বলেন, এরশাদ বিচক্ষণ মানুষ ছিলেন।  তিনি বুঝেশুনে সবকিছু ট্রাস্ট করে গেছেন।  তার সন্তানদের সেভাবেই মালিকানা করে গেছেন।  আমি সেসব নিয়ে ভাবছি না।