বাঘারপাড়ায় বোনাস ফসল কৃষকের ছিটানো সরিষা অন্যবারের তুলনায় এবার অনেক ভালো

0
112

খান কে এম শরাফত উদ্দীণ, বাঘারপাড়া (যশোর) থেকে ঃ বাঘারপাড়া উপজেলায় এবছরে ছিটানো সরিষায় ব্যাপক ফলনের আশা করছেন কৃষকরা কিন্তু অতিরিক্ত কুয়াশা আর আকস্মিক বর্ষায় কি হবে সেটি এখন দেখার বিষয়। ধান ক্ষেতে থাকতেই ছিটানো হয় এই সরিষার বীজ।

এরপর পাঁকা ধানের মধ্যেই গজিয়ে ওঠে চারা। আর ধান কাটার সময়ে সরিষার চারার মাথার সমান করে অনেকেই কেটে নেয় ধান। সেই আর কোনো সার,পানি সেচ অথবা জমি চাষ ছাড়াই নিজ গতিতে বাড়তে থাকে সরিষার চারা গাছ। এভাবেই আমন কাটার সপ্তাহ খানেক আগে পরে বীজ ছিটানো হয় জমিতে। চারা গুলো ডালপালা ছেড়ে এক সময়ে সমস্ত ক্ষেত হলুদ রঙ্গে ভরে যায়।চারি দিকে মনোমুগ্ধ কর পরিবেশের সৃষ্টি হয় গ্রামাঞ্চল । যেন মনে হয় মাঠে প্রকৃতি হলুদ চাদুয়ায় ঢেকে আছে। এ চাষে উল্লেখ যোগ্য তেমন কোনো খরচ হয় না।

শুধু বীজ ছিটিয়ে দিয়েই কৃষকরা এ সরিষা ঘরে তুলতে পারেন কোন রকম খরচে। তাই এর নাম করণ করা হয় বাড়তি ফলন ছিটা আবাদ বা সরষিা। আমন থেকে বোরো চাষের মাঝখানের সময় পর্যন্ত এমনিতেই পড়ে থাকে জমি, যার ফাঁকে চাষিরা বাড়তি ফসল হিসাবে এই চাষ করে থাকেন। এই সময়ে কোনো রকমের খরচ ছাড়াই সরিষা পাওয়া যায় বলে কৃষকরা এটাকে বোনাস ফসল হিসেবে উল্লেখ করেন।

লাভ পেয়ে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার কৃষকেরা দিন দিন এ বোনাস চাষে ঝুঁকছেন। উপজেলার কৃষি অফিসের সূত্রানুযায়ী,এ উপজেলায় ছিটা সরিষার চাষ আগে খুব বেশি ছিলোনা বর্তমানে অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই কৃষকদের মাঝে অল্প ব্যয়ে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকের মাঝে অনেক টাই সাড়া ফেলেছে। এ মৌসুমে বাঘারপাড়া উপজেলায় মোট সরিষার চাষ হয়েছে ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। বাঘারপাড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল আলম জানান, এই উপজেলায় মাটি ভালো যে কারনে দিন গেলেই কৃষকরা ছিটা সরিষা চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন গত বারের চেয়ে এবার অনেক বেশি।

একাধিক কৃষকরা জানান আমন কাটার সপ্তাহ খানেক আগে পাকা ধান ক্ষেতের মধ্যেই বিঘা প্রতি দুই কেজি করে সরষিার বীজ ছিটিয়ে দেয়া হয়। এরপর কয়েক দিনের মধ্যে চারা গজিয়ে গেলে ধান কাটা শুরু হয়। আর কোনো বাড়তি ঔষধ ও যতœ ছাড়াই বীজ ছিটানোর ৭/৮ সপ্তাহের মধ্যেই কৃষকেরা সরিষা সংগ্রহ করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে এক বিঘা জমিতে ৪-৫ মণ সরিষার ফলন পাওয়া যায়। আবার সরষিা সংগ্রহের পর ওই জমিতে বোরো চাষের সুযোগ থাকে। এই উপজেলার মহিরণ গ্রামের কৃষক মৌলভী হেজবুল্লাহ খান ও ধুপখালি গ্রামের লুৎফার রহমান জানান, এ বছর দু”জনে প্রায় দেড় বিঘা জমিতে ছিটা সরিষার চাষ করেছেন। এজন্য তাদের কোনো বাড়তি খরচ লাগেনি, ধান বা অন্য ফসল চাষ করে উৎপাদন খরচ বাদ দিলে খুব বেশি লাভ থাকে না ।

এক্ষেত্রে ছিটা সরিষায় কোনো খরচ বাদেই বিঘা প্রতি প্রায় ১০ /১২ হাজার টাকা লাভ পাওয়া যায়, যা তারা বোনাস বলে মনে করেন। বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল আলম জানান, এ বছর উপজেলায় ৫শত ৩০ জন কৃষকের মাঝে সরিষার বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতারণ করা হয়েছে। স্বল্প খরচে উৎপাদন হয় বলে কৃষকেরা এবার ছিটা সরিষা চাষীরা বেশ ঝুঁকেছেন। অতিরিক্ত কুয়াশা এবং আকস্মিক বর্ষায় সরিষার ফুল ঝরেছে বেশ যে কারনে কৃষকেরা কিছুটা দুশ্চিন্তা ও করছেন।

এ এলাকার কৃষকরা যেমনটা ফলনের আশা করেছিলেন তা হইতো আকস্মিক বর্ষার কারনে তাদের আশাতীত ফলন পাবেনা কিছুটা হলে কম ফলন হবে। তবে তারা বলেন অন্য চাষের তুলনায় সরিষা চাষে খরচ কম যে কারনে খুব একটা লোকসান হবেনা তবে লাভের থেকে কিছুটা কম হবে । আর যা কম হবে তা পুষিয়ে নেওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন অনেক কৃষকরা। আর এতে অধিক লাভবান না হলেও খুব একটা ক্ষতি ও হবেনা। তবে অনেকেই বলছেন এবারের সরিষায় বাম্পার ফলন হয়েছে।