মাশরাফির যত সাফল্য

0
117

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে অধিনায়কত্বের সমাপ্তি টানছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় তাদের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ। এর আগে বৃহস্পতিবার ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে খোদ নিজেই এ ঘোষণা দিলেন তিনি।

এ নিয়ে টানা ৬ বছর (সবচেয়ে বেশি সময়) টাইগারদের নেতৃত্বের ইতি ঘটাচ্ছেন মাশরাফি। তবে এখনই অবসর নিচ্ছেন না তিনি। খেলা চালিয়ে যাবেন ম্যাশ। খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। এদিন সকালেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নড়াইল এক্সপ্রেস।

বাংলাদেশের হয়ে ২০১০ সালে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন মাশরাফি। তবে লম্বা ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে যাওয়ায় অধিনায়কত্ব হারান তিনি। এরপর ফের পুরোদমে টাইগারদের দায়িত্ব বুঝে নেন ডানহাতি পেসার। এ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই শেষ দফায় পথচলা শুরু হয় তার। সেই তাদের বিরুদ্ধেই দলনায়ক হিসেবে ক্যারিয়ারের অবসান ঘটাচ্ছেন তিনি।

এসময়ের মধ্যেই ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন মাশরাফি। তার ছোঁয়ায় বদলে গেছে বাংলাদেশ। দেশ-বিদেশে জিততে শিখেছে তারা। ওয়ানডেতে দেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক তিনিই। তার নেতৃত্বে প্রথম ৫০টি একদিনের ম্যাচ খেলে তারা। এখন পর্যন্ত তার অধীনে সর্বোচ্চ ৮৭টি ওয়ানডে খেলেছে দল। তন্মধ্যে ৪৯টিতে জয় পেয়েছে তারা। লাল-সবুজ জার্সিধারীদের হয়ে সর্বোচ্চ ওডিআই ম্যাচ জয়ের রেকর্ড এটিই।

মাশরাফির অধিনায়কত্বে দুটি বিশ্বকাপ খেলে বাংলাদেশ। টাইগার কাপ্তান হিসেবে যা প্রথম। তার অধীনে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল (২০১৫) খেলে তারা। পাশাপাশি ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। তবে ২০১৯ বিশ্বকাপে মাত্র তিনটি ম্যাচ জেতে ম্যাশ বাহিনী।

মাশরাফি যেন জিয়নকাঠি। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তার নেতৃত্বেই ক্রিকেট পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়েকে ওডিআই সিরিজ হারান টাইগাররা। দলীয় সর্বোচ্চ রানের স্কোর গড়েন তারা। নড়াইল এক্সপ্রেসের নেতৃত্বেই প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্ট জেতে বাংলাদেশ।