৫৫ কারখানায় ছাঁটাই হয়েছে ২৫০০০ পোশাক শ্রমিক

0
81

দেশজুড়ে চলমান করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে দেশের ৫৫টি তৈরি পোশাক কারখানা থেকে অন্তত ২৫ হাজার পোশাক শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিশেষত যেসব পোশাক শ্রমিকদের চাকরির বয়স এক বছর তাদের জোরপূর্বক ছাঁটাই করা হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর এক ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানে এমন তথ্য জানিয়েছেন দেশের শ্রমিক নেতারা।

সিডিপির নির্বাহী পরিচালক ডা. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, ‘করোনার সংকটকালে দেশের পোশাক খাতের শ্রমিকরা নতুন করে বিপাকে পড়েছেন। গার্মেন্টস মালিকরা বছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেন, অথচ শ্রমিকদের বেতন দিতে পারেন না। দেশের ৫৫টি পোশাক কারখানার প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিকের বেতন এখনও পরিশোধ করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের সময় শ্রমিকদের নিয়ে তামাশা করা হয়েছে। তাদের গ্রাম থেকে ঢাকায় নেয়া হলো, আবার গ্রামে ফেরত পাঠানো হলো। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। অনেক শ্রমিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।’

দেশের শ্রমিকরা বরাবরই বঞ্চনার শিকার উল্লেখ করে জলি তালুকদার বলেন, ‘রানা প্লাজা ধসের ৭ বছর পার হলেও শ্রমিকদের অনেক দাবি পূরণ করা হয়নি। হত্যার বিচার হয়নি। অনেক শ্রমিক সঠিকভাবে ক্ষতিপূরণ পাননি। রানা প্লাজায় ট্রাজেডিতে শ্রমিকরা মূলত মালিকদের বাড়তি মুনাফার লোভের শিকার হয়েছেন।’

ওই ভার্চুয়াল আলোচনায় সংযুক্ত হয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, ‘গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকরেদ এক মাসের বেতন দিতে পারে না। এটা একটা দুঃখ। আমাদের একটাই দাবি, শ্রমিকদের মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতনসহ বোনাস দিতে হবে। এখনও প্রায় ৩০ শতাংশ শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করা হয়নি।’

এদিকে গত ১৮ এপ্রিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, মহামারি করোনা ভাইরাসে লকডাউনে পড়া ৯৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ পোশাক শ্রমিকের মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তৈরি পোশাক খাতের (বিজিএমইএর অধীন কারখানাগুলোর) মোট ২৪ লাখ ৭২ হাজার ৪২১৭ জন শ্রমিকের মধ্যে ২৩ লাখ ৭০ হাজার ৯১৭ জন শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। মোট ২ হাজার ২৭৪টি কারখানার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৭১টি কারখানা (৯১ দশমিক ০৭ শতাংশ) তাদের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে।