মাদরাসার হিফজ বিভাগ খোলার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ন জরুরী সতর্ক বার্তা:

0
61

 

চিত্রারপাড় নিউজ ডেস্কঃ আলহামদুলিল্লাহ… গত 7 জুলাই 2020 সরকারের পক্ষ হতে মাদ্রাসার হিফজুল কোরআন বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

আমরা আশা করছি,অতিশীঘ্রই অন্যান্য বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি প্রদান করা হবে।
আমরা বিশ্বাস করি, হায়াত-মউত সুস্থতা, অসুস্থতা সবকিছুই আল্লাহতালার ইচ্ছায় হয়।কিন্তু আল্লাহ তাআলার বিধান মোতাবেক আমাদেরকে সর্তকতা অবলম্বন বিষয়টিকেও গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে।এই মহা বিপর্যয়ের সময় মাদ্রাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতায অবলম্বন করতে হবে। এর মধ্যে কয়েকটি বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

১-মাদ্রাসায় আগত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া উচিৎ। (সম্মতিপত্রের নমুনা দেওয়া হলো।)

২- শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা আনার ক্ষেত্রে অভিভাবক কে এখতিয়ারর দেওয়া উচিত। অর্থাৎ, <অভিভাবক যদি মনে করেন, তার সন্তানকে অবস্থান করতে দেওয়া নিরাপদ, তাহলে দিবেন। অন্যথায় নয়।

<কোন অসুস্থ ছাত্রকে যেন অভিভাবক মাদ্রাসায় না পাঠান। বিষয়টি নিশ্চিত করা।

৩-<স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণের ব্যয়ের ক্ষেত্রে কার্পণ্য না করা।সাধ্য মোতাবেক এ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।

৪- পড়ালেখা , থাকা-খাওয়া সহ সবক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে কিতাব বিভাগের হলরুম, মাদ্রাসা-সংলগ্ন মসজিদ কে ব্যবহার করা।

৫-<প্রতিদিন একাধিকবার বর্তমান পরিস্থিতি হতে নাজাতের উদ্দেশ্যে বিশেষ খতম জারি করা।

৬- <শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখা। এক্ষেত্রে করণীয়:
ক- খাবার যা-ই হোক তা যেন টাটকা হয়।
খ- প্রতিদিন কালিজিরা, মধু,লেবুর পানি, বিভিন্ন মসলার পানি অর্থাৎ এন্টি বডি বৃদ্ধিকারী পথ্য খাওয়ার সুযোগ রাখা। এটা অতি স্বল্প টাকায় সম্ভব।

গ-<প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা। জর মাপার আধুনিক মেশিন ও জরুরী ঔষধ রাখা।
ঘ- <শরীর ক্লান্ত করে, এমন খেলাধুলা বন্ধ রাখা।
ঙ- <শোয়ার ক্ষেত্রে ফ্লোরের ঠান্ডা না লাগে,এমন ভারি তোষক অথবা তোষকের নিচে পাতলা ফোম ব্যবহার করা।
চ – <কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার সাথে সাথে প্রাথমিক চিকিৎসা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা। তৎক্ষণাৎ অভিভাবককে সংবাদ দেওয়া।
ঙ- <যেসব মাদ্রাসার মসজিদে বাইরের মুসল্লীরা আসেন, সেখানে নামায না পড়া। অথবা মুসল্লির সমাগম সীমিত করা।
চ -<যেসব রুমে পর্যাপ্ত পরিমাণ বায়ুনির্গমনের ব্যবস্থা নেই, সেখানে দরজা-জানালা বৃদ্ধি করা। অথবা এডজাস্ট ফ্যান লাগিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা।
ছ-<প্রতিদিন সকাল 11 টা থেকে বিকাল তিনটার মধ্যে যেকোন সময় 20 মিনিটের জন্য খালি গায়ে রোদ গ্রহণের মাধ্যমে ভিটামিন ডি গ্রহণ করা। কারো জ্বর থাকলে এটা অবশ্যই বর্জনীয়।
ছ-<শিক্ষার্থীদের বাইরে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসা পরিচালক, কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দের আরো গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ আশা করছি।
আল্লাহতালা তৌফিক দান করুন।

লিখেছেন:
মুফতি সাইফুল ইসলাম মাদানী।
মুহ্তামিম, বড় কাটারা মাদ্রাসা, চকবাজার, ঢাকা।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ কওমি পরিষদ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.