কমছে বন্যার পানি তবে বাড়ছে দুর্ভোগ

0
76

কমছে বন্যার পানি তবে বাড়ছে দুর্ভোগ

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমতে শুরুর করলেও বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বন্যার কারণে বাঁধ, অন্যান্য উঁচু স্থান ও সড়কে আশ্রয় নেওয়া মানুষের খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব মিটছে না। বাড়ির ছাদে কিংবা গাছের ডালে অবস্থান করা সাধারন মানুষ খাদ্য না পেয়ে অনাহারে জীবন যাপন করছে। খাদ্যের অভাবে শিশুদের কান্নায় ভারী হচ্ছে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা ও বগুড়ায়সহ বেশ কয়েকটি জেলায়। বেশ কয়েকটি জেলায় ত্রান বিতরন করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।

বন্যার পানিতে বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় ভিজে কাপড়ে দেখা দিয়েছে চর্মরোগসহ ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগ।
এদিকে পানি কমতে থাকলেও নদ-নদীভাঙন বেড়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোর বন্যার্তদের কেউ কেউ বাড়িঘরে ফেরা শুরু করলেও সেগুলো বালু ও কাদায় ভরে আছে।

দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা ও বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। তবে সিরাজগঞ্জের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

এদিকে, দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসি মানুষের। রাস্তা-ঘাট বিধ্বস্ত হওয়ায় অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে লোকজন বাড়ি ফিরলেও ভাঙা ঘর মেরামত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে তারা। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ত্রাণের জন্য এখনও হাহাকার চলছে। কোনো নৌকা দেখলেই বানভাসি মানুষ ছুটে যাচ্ছে ত্রাণের জন্য। এখন পর্যন্ত ২২ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩২ লাখ মানুষ। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অর্ধ
শত।

ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যাকবলিত চরাঞ্চলে ত্রাণের জন্য হাহাকার করছেন বানভাসিরা। সেখানে হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। ছয় দিন পার হলেও চরাঞ্চলের অনেক স্থানে মিলছে না ত্রাণ সহায়তা। বানভাসিদের অভিযোগ, চরাঞ্চলগুলো দুর্গম হওয়ায় তাদের কাছে যায় না কেউ, বাড়ায় না সাহায্যের হাত। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হলেও তা অপ্রতুল বা না দেয়ার মতোই।

 

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার ভারতীয় অংশে আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় গড়ে ৩০ সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেতে পারে। বাংলাদেশ অংশের ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে আগামী ৭২ ঘণ্টায় হ্রাস অব্যাহত থাকবে। গঙ্গা-পদ্মার পানি বৃদ্ধি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকলেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে। মেঘনা অববাহিকার নদীর পানি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় হ্রাস পাবে।