0
85

“নাফ নদ “এক পাড়ে দোজখ, আরেক পাড়ে স্বর্গ।
মেহেদী হাসান

আসমানে একটা চিকন চাঁদ
ধান কাটা কাচির মতো;
কাচির ধার আছে,
চাঁদের তাও নেই।
চিকন চাঁদ কারো ভাল লাগে? জানি না,
হয়তো কারো ভালোই লাগে, নতুবা কেনই বা আকাশে
রোহিঙ্গাদের ভালোই লাগে; রোহিঙ্গাদের ধরা নরক।
দীর্ঘ পথ জঙ্গল পাড়ি দিতে সামনে অন্ধকার
গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আসমানে চিকন চাঁদ;
মানে একটু আলো ভাসে মাটি ছোঁবে ভেবে
শিশু বলে মা, দেখ আকাশে পিতলের কান্দা হাসে
মা বলে চুপ থাক;কেউ শুনে যাবে,খাকি পেশাক আসবে
তোরে ধরে নিয়ে যাবে, ফেলে দিবে ইঁদুর গর্তে!
চুপ করে থাক, আস্তে আস্তে হাঁট, রাত পোহাক
আসমানে অরুন হানবে রাঙা আলোর জ্যোতি
দেখবি তখন কেমন আসছে বার্মার নৃপতি!
তখন চুপ করে থাকিস, কথা বলবি না, মাথা নিচু
হাঁটতে হাঁটতে পাব নাফ নদ, যেন কাওছারে পানি
ঐ পানি পাড়ি দিলেই, নরক হবে স্বর্গের ধাত্রী।
আরেকটু হাঁট বাবা, আরেকটু হাঁট,
বড় কষ্ট আমি জানি, তোর বাবা পরজনমে দিছে পাড়ি।
ঐ দেখ বালু মিশ্রত পানি, দেখ কিছু লাশ
চল বাবা দেখে নেই, তোর পিতার আছে কিনা আশ
দৌঁড় দিয়ে নাফ নদ, ভাসছে কিছু বেয়ারিশ লাশ।
নাফ নদ, নাফ নদ, দিতে হবে পাড়ি
ঐ পারে আছে, মানুষ নামের কিছু কান্ডারী।