মোদিজী, ভাবনার জগত প্রসারিত করুন

0
143

মোদিজী, ভাবনার জগত প্রসারিত করুন

বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ মোদিজীর ভাবখানা এমন যে তিনি খুব খোশ মেজাজেই আছেন। রোহিঙ্গারা অধিকাংশই মুসলমান বিধায় তিনি অভ্যন্তরীণ রাজনীতির শিকার হচ্ছেন না। তাছাড়া মায়ানমারের সাথে ভাল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তিনি মায়ানমারের সুরে এবং ঢংগে কথা বলছেন; কারণ হলো –মায়ানমারের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা, ভারতের পূর্বমূখী পলিসি গ্রহণ, চীনের সাথে অর্থনৈতিকভাবে সমানতালে চলা, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নবাদীদের কোনঠাসা করতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে একসাথে কাজ করা সহ মায়ানমারের অবকাঠামো উন্নয়ন।

কিন্তু মোদিজী রোহিঙ্গাদের স্রোতের ঢেউয়ের দিকে লক্ষ্য রাখছেন না; কিন্তু এই স্রোতের ঢেউ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আছড়ে পড়তে পারে। ভারতের উঠোনে সন্ত্রাসের আতুর ঘর হতে পারে। বাংলাদেশ যদি রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা প্রধান করতে না পারে তাহলে রোহিঙ্গাদের অস্ত্র হাতে নিতে সময় লাগবে না এবং পাকিস্তানের ওঝও এর মাধ্যমে চীনের হয়ে রোহিঙ্গাদের হাতে অস্ত্র চলে আসার সম্ভাবণা আছে। যে সমস্ত রোহিঙ্গারা এসেছেন তাদের অধিকাংশই বাচ্চা শিশু এবং অনেকেরই মা-বাবা নেই, অধিকাংশ শিশু পুষ্টিহীনতায় ভূগছে, কিছু যুবক স্ত্রী- সন্ত্রাস ফেলে রেখে চলে এসেছেন, এদের মধ্যে বড়ই ক্ষোভ। এরা যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন পাশেই ভারতের মিজোরাম প্রদেশ; এরা ভারত হতে স্বাধীনতা চায়। মনিপুর ও নাগাল্যান্ডের সাথে মায়ানমারের সীমান্ত রয়েছে। এরাও ভারত হতে স্বাধীনতা চায়। ভারতের বাড়ির পাশেই নিরন্ন, অবহেলিত, নির্যাতিত মুসলিম, অথচ ভারত এদের বিপক্ষ্যে কথা বলছে।

এই রোহিঙ্গাদের জঙ্গীবাদী / জাতীয়তাবাদী হবার সকল উপাদান নিহিত আছে।। আর যদি সেই বাস্তবতায় অস্ত্র হাতে তুলে নেয় তাহলে সেই বাতাস হতে ভারত কোন মতেই রক্ষা পাবে না। কারণ মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, আসাম এরা অনেক পূর্ব থেকেই ভারতের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হবার জন্য আন্দোলন এবং চোরাগুপ্তা হামলা করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা আন্তর্জাতিক চক্রের মাধ্যমে অস্ত্র পেলে ভারতের বিচ্ছিন্নবাদীরা অনেক উস্কানি পাবে। তাই সময় থাকতে রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পাশে এসে ভারতের দাঁড়ানো উচিত। মোদিজী, আপনার উঠোনে সন্ত্রাসের আঁতুরঘর হতে পারে! তাই মোদিজী সাবধান! দিল্লি নিয়ে চীনও খেলবে।