চীনের ছোট ছোট চোখগুলি তাকিয়ে থাকে আর আস্তে আস্তে ঢেকুর তোলে!

0
163

চীনের ছোট ছোট চোখগুলি তাকিয়ে থাকে আর আস্তে আস্তে ঢেকুর তোলে!

মানুষ হত্যার ধরণ, মানুষকে নির্যাতনের মাত্রা, নারীকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা, গর্ভবতী মায়ের পেটে আঘাত করে বাচ্চাসহ মাকে হত্যা, ঘরবাড়ি পোড়ানোর অমানবিক দৃশ্য, পালিয়ে আসা লোকদের উপর নির্বিচারে গুলি, বৃদ্ধ মানুষকে হত্যা, এসব দৃশ্য দেখে এবং মানব মনের বাস্তবতা দিয়ে মেলাতে গেলে মনে হয় মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেবার সম্ভাবনাই বেশি। এমনি পরিস্থিতিতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ্ব যেভাবে সবর তাতে মনে হচ্ছে মানব মনের এই মানবতার তেজ ধারালো থাকতে থাকতেই মায়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সময় বেঁধে দিতে হবে। এরপর মায়ানমার কথা না শুনলে Humanitarian Intervention নামকরণে জাতি সংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে পাশ কাটিয়ে NATO এর মাধ্যমে মায়ানমারে হামলা চালিয়ে উচিত শিক্ষা দিতে হবে।

এমনি বাস্তবতা এসে দাঁড়ালে ভারতের মোদী সরকার ভারতের জনগনের চাপে চুপ থাকতে বাধ্য হবে। আর পারমানবিক অস্ত্র অধিকারী রাষ্ট্রসমূহের সাথে পারমানবিক অস্ত্র আবিষ্কারের পরে তাদের মধ্যে বড় ধরণের যুদ্ধ বাধেনি, কারগিল ( ভারত ও পাকিস্তান), বর্ডার যুদ্ধ ১৯৬৯( চীন ও রাশিয়া), অতি সম্প্রতিকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরে আমেরিকা সিরিয়ার উপর অনেক বড় ধরণের বোমা নিক্ষেপ করে, এতে রাশিয়া শুধু নিন্দা করেই চু থাকে। তাই NATO এর নৌবহর যদি ভূমধ্যসাগরে খুটা গাড়ে তাহলে চীনের হায়হায় করা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না। রাশিয়া যখন ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে নেয় পারমানবিক অস্ত্রধর সম্পন্ন রাষ্ট্র নিন্দা প্রস্তাবে ব্যস্ত ছিল এবং রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে কিন্তু কোন অস্ত্র ব্যবহার করে নাই। বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত মহাসাগরে আমেরিকার একটা নৌঘাটি অনেক দরকার।

এখন চীন আর ভারত যদি রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না করে তাহলে আমেরিকা, ইংল্যান্ড আর ফ্রান্সের NATO এর বহর নিয়ে আসা সহজ হবে এবং বিশ্ব জনমত মার্কিনীদের দিকে ঝুঁকে পড়বে কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে আধুনিক যুগে রোঙিঙ্গাদের উপর যে নির্যাতন হয়েছে এমন নির্যাতন আর কোন জাতির উপর হয় নাই। তাই বিশ্ব বিবেক রোহিঙ্গাদের অনুকূলে। মায়ানমারকে ভারত আর চীনের রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রবল চাপ প্রয়োগ করা উচিত। মানায়মারে যে প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে সেই সম্পদের লোলুপ দৃষ্টি সবারই আছে। রোঙিঙ্গা ইস্যুতে মার্কিনীদের মানায়মার থেকে তেল আর গ্যাস নিতে সুবিধা হতে পারে; তখন বিভিন্ন জাতি যেমন-চিন, কাচিন, কারেন, শান, বর্মি এর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে মায়ানমার হতে পারে আরেক ইরাক। আর আমেরিকা যদি একবার আসে চীনের বানটাহুর ছোট ছোট মানুষের কিছুই করার থাকবে না। চীনের দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে আমেরিকার নৌবহর দিব্বি চলাচল করে; তাইওয়ানকে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে তাতে চীনের ছোট ছোট চোখগুলি তাকিয়ে থাকে আর আস্তে আস্তে ঢেকুর তোলে।

লেখকঃ মেহেদী হাসান, সাবেক সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ