এক মাস রোহিঙ্গা সঙ্কটের : সমাধান কবে?

0
75

ঠিক এক মাস আগে শুরু হওয়া এই আগমনের ঢল এখনো অব্যাহত রয়েছে। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ও চরমপন্থী বৌদ্ধের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া শরণার্থীদের এই ঢলে ইতোমধ্য ৪ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে তাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মায়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব শরণার্থীদের মধ্য কমপক্ষে ৪২০,০০০ শিশু রয়েছে।

অসহায় এসব মানুষদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশংসিত হয়েছেন। কিন্তু কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনি এই সমস্যা সমাধানে খুব বেশি আন্তর্জাতিক সাহায্যের আশা করতে পারেন না।

তারা সতর্ক করে দিচ্ছেন, এই সমস্যার যদি কোনো সমাধান না পাওয়া যায় তবে বাংলাদেশের শান্ত আবেগটি সহজেই শীতল হতে পারে।

লন্ডনের ‘চ্যাথাম হাউস ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ইনস্টিটিউটে’র এশিয়া প্রোগ্রামের প্রধান চম্পা প্যাটেল এএফপি নিউজ এজেন্সিকে বলেন, ‘বাংলাদেশ একা এই সঙ্কট মোকাবেলা করতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এমনিতেই ঘনবসতিপূর্ণ, দরিদ্র এবং অনেক আগে থেকেই বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্যরা এখানে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ শরণার্থীদের স্বাগত জানালেও এই সঙ্কট সমাধানের সুস্পষ্ট সম্ভাবনা ছাড়াই অব্যহতভাবে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ফলাফল উল্টো হতে পারে।’

সেখানে পর্যাপ্ত খাদ্য, পানি বা ঔষধ নেই। ক্যাম্পের চারপাশে সড়কটি মানুষের মলমূত্রে ভরে গেছে। এতে করে খুব দ্রুত মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিনিধি জোনাহ হুল বলেন, ‘মৌলিক স্যানিটেশনের অভাবের অর্থ হচ্ছে রোগের বর্তমান ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়া এবং সহায়তার প্রচেষ্টাই কেবল তাদের চাহিদাকে পূরণ করতে পারে।’

বাংলাদেশের জনগণ রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের ভয়াবহ কাহিনী এবং গণহত্যার খবরে সমবেদনা প্রকাশ করেছে। দেশটির জনসাধারণের দানকৃত বিভিন্ন মালামাল নিয়ে ট্রাকের বহর প্রতিদিনই কক্সবাজারে আসছে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রধান সতর্ক করেছেন যে এই সঙ্কট দীর্ঘায়িত হতে পারে।

ইউএনএইচসিআর-এর প্রধান ফিলিপ গ্রান্ডে আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমাদের এমন সমস্যা জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে যা কিছু সময়ের জন্য দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সমস্যার সমাধানে বিনিয়োগ করার কথা অনেক বার বলেছেন, তাই আমাদের জন্য তার সহায়তাও প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এটা উপেক্ষা করতে পারি না যে এই লোকগুলো ফিরে যাওয়ার অধিকার রাখে।’

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের সমস্যার সমাধান করার জন্য বৈশ্বিক সাহায্য চেয়েছিলেন। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাব দেন। কিন্তু মায়ানমারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।