দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ভূয়া দলিলে পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

0
170

শেখ সাইদুল আলম সাজু, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ভূয়া দলিল সৃষ্টির মাধ্যমে পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি জমির প্রকৃত মালিককে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে জমির মালিক বছির উদ্দীনের ছেলে মোঃ তমজিদুল ইসলামের অভিযোগ করেছে।

জানা গেছে বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চাপাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃতঃ নবির উদ্দীনের ছেলে মৃতঃ বছির উদ্দীন একই গ্রামের মুতঃ বয়তুল্লাহ মন্ডলের ছেলে মৃতঃ হাফিজ উদ্দীন মহাম্মদ এর নিকট হতে ১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৮ সালে ২.৮৫ শতক জমি ক্রয়ের পর ভোগদখল করে আসছিল। পরবর্তীততে মোঃ বছির উদ্দীন পাশবর্তী পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংঠী হাজরা ডাঙ্গা ইউনিয়নের চেংঠী গ্রামে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করে।

তার মৃত্যূর পর বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চাপাপাড়া গ্রামের
বাসিন্দা মৃত অজির উদ্দীনের ছেলে মন্জুর আলী জমির দলিল সুত্রে প্রকৃত মালিক
মোঃ বছির উদ্দীনকে নাবালক দেখিয়ে ইংরেজী ১৯৫৩সালের ৪এপ্রিল মোঃ বছির উদ্দীন পিতাঃ মোঃ নবির উদ্দীনেরর নিকট জমি রেজিষ্ট্রি করে নেয়। কিন্তু জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী দলিল মুলে মালিক মোঃ বছির উদ্দীনের জন্ম ইংরেজী ১৯২৯ সালের ২২ এপ্রিল। সে সময়ে তার বয়স ছিল ২৪ বছর। ২৪ বছরের যুবককে নাবালক দেখিয়ে রেজিষ্ট্রিকৃত জমির দলিলের মাধ্যমে ভূমি জরিপের মাঠ পর্চা তাদের নামকরন করে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে মোঃ বছির উদ্দীনের ছেলে মোঃ তমজিদুল ইসলাম বীরগঞ্জ উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে আপত্তি জানিয়ে আবেদন করে। আবেদনের শুনানি শেষে মামলার রায় মোঃ তমজিদুল ইসলামের পক্ষে প্রদান করা হয়। পরে মামলা জেলা জজ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

কিন্তু সেখানে তাদের পক্ষে রায় না যাওয়ার আশংকায় ভূয়া দলিল সৃষ্টকারীরা জমি দখলের অপকৌশলে লিপ্ত রয়েছে। এব্যাপারে ভূক্তভোগী পরিবার প্রশাসন সহ এলাকার সচেতন মহলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

এব্যাপারে অভিযোগ অস্বীকার করে মন্জুর আলীর ছেলে মোঃ সুমন জানান ক্রয়ের পর থেকে জমিটি তারা ভোগদখল করে আসছে। খাজনা খারিজ তাদের নামে রয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন পর বিক্রেতার পরিবারের পক্ষে মোঃ তমজিদুল ইসলাম জমির মালিকানা দাবি করে আসছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার শালিস বৈঠক ডাকা হলেও বৈঠকে তারা উপস্থিত হয়নি। বর্তমানে আদালতে এব্যাপারে মামলা চলমান রয়েছে।