
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের সন্তান সাব্বির হোসেন আজ আর শুধুই একটি নাম নন; তিনি বেকার যুবসমাজের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণার প্রতীক। জীবনের কঠিন বাস্তবতা ও পারিবারিক আর্থিক সংকটকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি গড়ে তুলেছেন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের অবস্থান।
পরিবারের অভাব-অনটন দেখে পিতাকে সহযোগিতা করার তাগিদ থেকেই শুরু হয় তাঁর সংগ্রামী পথচলা। এইচএসসি পাসের পর হতাশ না হয়ে তিনি আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যান। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরামর্শে তিন মাস মেয়াদী ‘গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য ও কৃষি’ বিষয়ক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে অত্যন্ত সফলতার সাথে (এ+ গ্রেড) প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ঋণ, পিতার সহায়তা এবং নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন স্বপ্নের ‘বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্ম’। বর্তমানে তাঁর খামারে ব্রয়লার মুরগি, লেয়ার ডিম উৎপাদন এবং মৎস্য চাষ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব কার্যক্রম থেকে তাঁর বাৎসরিক টার্নওভার ইতোমধ্যে কোটির ঘর অতিক্রম করেছে।
সাব্বির হোসেন শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি; তাঁর প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ১২ জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য স্থানীয় মাছচাষী ও কৃষকদের মাঝে সরবরাহের মাধ্যমে তিনি এলাকায় একটি কার্যকর কৃষি-ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছেন, যা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবেও প্রশংসিত হচ্ছে।
তাঁর আরেকটি বিশেষ দিক হলো সহযোগিতাপূর্ণ মানসিকতা। নতুন উদ্যোক্তা বা খামারিরা পরামর্শ চাইলে তিনি আন্তরিকভাবে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ব্যবসায়িক জ্ঞান ভাগ করে নেন, যাতে অন্যরাও আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।
সম্প্রতি ‘বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্ম’ পরিদর্শন করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, যশোরের উপ-পরিচালক (ডিডি) খন্দকার মোঃ জাকির হোসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন,
“বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্ম একটি সুসংগঠিত, পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর মডেল প্রকল্প। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সাব্বির যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তা অন্যান্য প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।”
অভাবকে জয় করে একাগ্রতা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহায়তার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সাব্বির হোসেন আজ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক গর্বিত অংশীদারে পরিণত হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যের গল্প নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য সাহস ও সম্ভাবনার নতুন বার্তা হয়ে উঠেছে।