
যশোরে মৃত প্রায় ২০টি খাল খনন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত ও সম্ভাব্য ব্যয় নিরূপণ করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত শার্শার উলাশী খাল খননের মধ্যে দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করবে পাউবোর যশোর কার্যালয়। আগামী ১ এপ্রিল এ খালটি খনন করতে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় ৩০ লাখ বরাদ্দ করা হয়েছে।
পাউবোর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ১৯৭৬ সালে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। খাল খনন হওয়ায় সেসময় সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। সেই চিন্তা থেকে বিএনপি এবার নির্বাচনে সারা দেশে খাল খননের প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। মৃতপ্রায় খালের তালিকা চায় মাঠ পর্যায়ে। নির্দেশানুয়ায়ী শনিবার রাতে যশোরের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবো’র যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী।
পাউবো’র যশোর কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলার ৮ উপজেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে খননের জন্য ২০টি মৃতপ্রায় খালের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে শার্শা উপজেলার উলাশী খাল, চার দশমিক ২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে আমলাই সেতাই খাল ও পাকশিয়া খালের তিন কিলোমিটার অংশ। কেশবপুরে খনন হবে মেহেরপুর খাল। এর দৈর্ঘ্য সাড়ে তিন কিলোমিটার। যশোর সদর উপজেলায় খনন করা হবে চারটি খাল। এরমধ্যে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ডোলপুর মুক্তেশ্বরী খাল খনন, তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে জিয়া খাল খনন, আড়াই কিলোমিটার শুরা খাল ও মনোহরপুর খালের সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ। মনিরামপুরের হরিদাসকাটির খাল দুই কিলোমিটার, কুমারসিঙ্গা খালের দেড় কিলোমিটার ও বাশিয়ারা খালের তিন দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ। অভয়নগরের রামনগর ও নাউলি খাল খনন করা হবে তিন কিলোমিটার করে। ঝিকরগাছার রাধানগর স্লুইস গেট হতে রাজাপুর খালের দুই কিলোমিটার, কাগমারি খালের তিন কিলোমিটার ও ফুলবাড়ী খালের দুই কিলোমিটার খনন প্রস্তুতের তালিকায় রয়েছে। এছাড়া চৌগাছার কান্দি বড়ো বিল হতে ভৈরব নদ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার খাল এবং চার দশমিক ১০ কিলোমিটার খলশির খাল খনন করা হবে। আর বাঘারপাড়া উপজেলায় খনন করা হবে রাঘরবপুর খালের দুই কিলো তিনশ মিটার ও বড়ক্ষুদ্র খালের দুই কিলোমিটার অংশ।
পাউবো’র যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, যশোর-৩ আসনের এমপি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অন্যান্য এমপি ও উপজেলার ইউএনওদের সাথে কথা বলে ২০টি খালের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সাড়ে ৫৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে খালগুলোর তালিকা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। খননের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে অন্তত ২৩ কোটি টাকা।
তিনি আরো বলেন, খাল খননের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ পেতে সময় লাগতে পারে। কিন্তু আমরা অপেক্ষা না করে কার্যক্রম শুরু করতে চলেছি। খাল কাটাসহ অন্যান্য খাতে প্রতি বছরই মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয়। আমরা কিছু কিছু খাত থেকে বরাদ্দ নিয়ে একত্রে করে ৩০ লাখ টাকায় উন্নীত করেছি। যেটা দিয়ে উলাশী খাল খনন শুরু করবো। আগামী ১ এপ্রিল থেকে খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর শার্শার উলাশীতে জিয়াউর রহমানের সাথে খান খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন উলাশী গ্রামের আব্দুল বারিক মন্ডল। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান উলাশীতে এসে নিজ হাতে বিসমিল্লাহ বলে মাটি কেটে আমাদের মাথায় তুলে দেন। খাল খননের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও অনাবাদি জমিতে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেই খালটি মৃতপ্রায়। খালটি পুনঃখনন করা হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং মৎস্য চাষের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।