
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া কাঠপট্টিতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের খোঁজখবর নিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. গোলাম রসুল। শুক্রবার (১৪ মার্চ) বিকাল ৩টায় তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন।
এ সময় তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের পুনর্বাসন এবং তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সম্ভাব্য সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) গভীর রাতে নওয়াপাড়া কাঠপট্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩টি কুঠি শিল্প এবং ৩টি চা ও মুদি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকান ও কুঠি শিল্পে ছড়িয়ে পড়ে। কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ মজুদ থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিকভাবে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে খুলনা থেকে আরও একটি ইউনিট এসে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডে কয়েকটি বড় কুঠি শিল্পের বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে গেছে। আগুনে ডিজাইন মেশিন, মোটর, বিভিন্ন ধরনের কাঠ, দরজা, ড্রেসিং টেবিল, পালঙ্ক, খাট, সোফা, ফ্রেমসহ কাঠের তৈরি বিভিন্ন আসবাবপত্র সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, অনেক গ্রাহকের অর্ডার করা আসবাবপত্র প্রস্তুত ছিল এবং অনেকের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থও নেওয়া হয়েছিল। আগুনে সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় তারা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দিন দীপু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অভয়নগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর সরদার শরিফ হোসেন, সেক্রেটারি মহিউল, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি নুরুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহসহ উপজেলা ও পৌর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।