
যশোরের চৌগাছায় জমির দলিল নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চাপাতি ও হাসুয়ার কোপে দুই ভাই রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। এ ছাড়া পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য মারধরের শিকার হয়েছেন। হামলার সময় এক নারীর স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চৌগাছা উপজেলার মশ্রশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শামীনুর রহমান (৩৮) চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে প্রতিবেশী হারুন হোসেন (৩৭), রাকিব হোসেন (২৬), হাওয়া খাতুন (৩০) ও হাসিনা বেগমকে (৪৮) অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে শামীনুর রহমানের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে বসতবাড়িতে জমির দলিল নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হারুন হোসেন তাঁকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান।
এ সময় শামীনুরের চিৎকার শুনে তাঁর বড় ভাই আলী হাসান (৪৫), মেজো ভাই মোমিনুর রহমান (৪০), বড় ভাইয়ের স্ত্রী খাদিজা বেগম (৩৫) ও স্ত্রী দীপা খাতুন (৩০) তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাঁদেরও এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
একপর্যায়ে হারুন হোসেন চাপাতি দিয়ে আলী হাসানকে এবং রাকিব হোসেন হাসুয়া দিয়ে মোমিনুর রহমানকে কোপান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দুই ভাই রক্তাক্ত জখম হন।
শামীনুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাঁর স্ত্রী দীপা খাতুনের গলা থেকে আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন হারুন হোসেন এবং কানের স্বর্ণের দুল হাওয়া খাতুন ছিনিয়ে নেন।
পরে আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। আহতরা চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী শামীনুর রহমান জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় তিনি চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পুলিশের পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া যায়নি।