
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারকারী সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের জন্য ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং তেল পাচারের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করতে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই অর্থ পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে পুরস্কারের অর্থ প্রদান করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীর জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) শুক্রবার রাতে এক বার্তায় জ্বালানি বিভাগ জানায়, জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকিতে সকল জেলায় ‘ভিজিলেন্স টিম’ গঠন করেছে সরকার। অবৈধ মজুদদারি বন্ধে তথ্য প্রদানকারীর জন্য আসছে পুরস্কারের ঘোষণা। সচেতন নাগরিকগণকে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ করা হয়।
এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অবৈধ তেলের কারবার ঠেকাতে জেলায় জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠনের কথা জানানো হয়।
সেই বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বিশেষ অভিযানে আনুমানিক ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধারের তথ্যও দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কমিশনার ঘাট এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম সুব্রত হালদার।
অভিযানে ৩০টি ড্রামে অবৈধভাবে মজুদ করা আনুমানিক ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে অভিযানে অংশ নেন। তবে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। উদ্ধার করা তেল পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানায় মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রশাসন জানতে পেরেছে, সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনের সময় একটি অসাধু চক্র অবৈধভাবে তেল অপসারণ করে বিভিন্ন স্থানীয় বিক্রেতার কাছে সরবরাহ করে থাকে।
জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুদ ঠেকাতে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। বর্তমানে তেল ডিপো, পেট্রোল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট তেল কারবারিদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।