বিজেএমসি যেন লোকসানের কারখানা

0
71

বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি)। পাট শিল্প এগিয়ে নেয়ার জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এটি সরকারের লোকসানের ক্ষেত্র হিসেবে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে চলতি অর্থবছরে ডিসেম্বর পর্যন্ত লোকসান হয়েছে ৪৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এছাড়া বিগত অর্থবছরে ৮২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

জাতীয়করণকৃত পাটকলসমূহ নিয়ন্ত্রণ, পরিদর্শন ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান (জাতীয়করণ) আদেশ ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ২৭,১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ-১০ অনুসারে বিজেএমসি প্রতিষ্ঠিত হয়। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বোর্ড অব ডিরেক্টরস কর্তৃক বিজেএমসি পরিচালিত হয়। বর্তমানে বিজেএমসি জনবলের দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এ সংস্থার প্রায় ৭০,০০০ শ্রমিক এবং ৫,৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি নিযুক্ত রয়েছে।

এ সংস্থার অধীনে বর্তমানে ৩টি নন জুট প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২৬টি মিল রয়েছে। ঢাকা অঞ্চলের অধীনে ৭টি, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধীনে ১০টি এবং খুলনা অঞ্চলের অধীনে ৯টি মিল রয়েছে। আঞ্চলিক মিলসমূহ দেখাশোনা ও সমন্বয়ের জন্য বিজেএমসির দুটি আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। বৃহত্তম পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিজেএমসি প্রধানত হেসিয়ান কাপড়, ব্যাগ, বস্তার কাপড়, বস্তা, সুতা, জিও-জুট, কম্বল, মোটা কাপড়, সিবিসি ইত্যাদি প্রস্তুত করে থাকে।

প্রতিষ্ঠার সময় এর লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে, বিজেএমসির জন্য বিশ্ববাজারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা, স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে সর্বোৎকৃষ্ট মানের পাটজাত পণ্য উৎপাদন করা হয়, শতভাগ বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করা, কৃষকদের পাটের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির বিষয়ে সহায়তা করা, কৃত্রিম আঁশ ব্যবহারের পরিবর্তে পরিবেশ বান্ধব প্রাকৃতিক তন্তু ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং পাট ও পাটশিল্পের উন্নয়নের জন্য সময়োপযোগী নীতি নির্ধারণে এবং বাস্তবায়নে সরকারকে সুপারিশ করা।

অথচ একের পর এক লোকসান দিতে দিতে প্রতিষ্ঠানটি যেন এখন সরকারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জন্য রাখতে হচ্ছে বিশেষ বরাদ্দ। ফলে প্রতিবছর বাড়ছে ভর্তুকির পরিমাণ। আর এতে বার্ষিক বাজেটে চাপ পড়ছে। প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক লোকসানের কারণে এটা বন্ধের পক্ষেও সরকারের একজন মন্ত্রী রয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, পাট ক্রয় ও পরিবহন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি, অলস মজুরি প্রদান, সক্ষমতা অনুসারে মিলের কার্যক্রম পরিচালনা না করা এবং অলস পাট ক্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করাই বিজেএমসির লোকসানের লোকসানের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া বেশি খরচে পুরনো মেশিন পরিচালনা, কাঁচা পাট ক্রয়ে অদক্ষতা, কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, পরিচালনা ব্যয় ও বিপণন অদক্ষতায় ক্ষতি থেকে বের হতে পারছে না বিজেএমসি।

এ ব্যাপারে এক সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, বিজেএমসিতে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান। দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানটিকে এমনভাবে গ্রাস করেছে যে, দুর্নীতিই সেখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিজিএমসিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য সব ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এই প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতিগ্রস্ত করেছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, বিজেএমসি সরকারের ডিজঅ্যাবল সন্তান। এটি লোকসান করলেও সরকার চাইছে এটিকে নার্সিং করে ভাল করতে। গত অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী বিজেএমসিকে টাকা না দিলেও প্রধানমন্ত্রী ঠিকই দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী চাইছেন এটি চলুক।