
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘারপাড়া (যশোর): তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, আজীবন কমিউনিস্ট নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কমরেড অমল সেনের ১১৩তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে যশোরের বাঘারপাড়ায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের এগারোখানের বাকড়ী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে কমরেড অমল সেনের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলির মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাকড়ী গোচর মাঠে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি এবং বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবীর জাহিদ, নড়াইল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক জহির, বাঘারপাড়া উপজেলা কমিটি ও স্মৃতি রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপুল বিশ্বাস, যশোর জেলা কমিউনিস্ট লীগের সদস্য পলাশ বিশ্বাস ও বিথীকা বিশ্বাস, অধ্যাপক রমেশ চন্দ্র অধিকারী, অপূর্ব অধিকারী, দিলীপ বিশ্বাস, সুবোধ বিশ্বাসসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, কমরেড অমল সেন ছিলেন কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের এক নির্ভীক সংগ্রামী নেতা। শোষণ-বঞ্চনা, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আজীবনের সংগ্রাম নতুন প্রজন্মকে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রেরণা জোগাবে। তেভাগা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলার কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আলোচনা সভা শেষে একই মাঠে বসুন্দিয়া ফুটবল একাদশ ও নড়াইল ফুটবল একাদশের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় কমরেড অমল সেনের সমাধিতে মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, কমরেড অমল সেন ১৯১৩ সালের ১৯ জুলাই নড়াইল জেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা গ্রামে এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জমিদার পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিজেকে উৎসর্গ করেন। শোষণ, বৈষম্য ও ভূস্বামী প্রথার বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করে তিনি তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন। ২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী যশোরের বাঘারপাড়ার বাকড়ী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে তাঁকে সমাহিত করা হয়। ইতিহাসখ্যাত তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত এই বাকড়ী আজও তাঁর সংগ্রামী আদর্শের নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।