
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার থানা বাজারে জেলি পুশ করা চিংড়ি মাছ বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় ভোক্তা ঠকানোর এই অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করে এক মৎস্য আড়তদারকে জরিমানা করা হয়েছে।
আজ সোমবার হাটের দিনে বাঘারপাড়া থানা বাজারে নিয়মিত তদারকি করছিলেন উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মনিরা খাতুন। বাজার পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি কিছু চিংড়ি মাছে কৃত্রিমভাবে জেলি পুশ করার বিষয়টি হাতেনাতে শনাক্ত করেন। পরে তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল ইমরানকে অবহিত করলে সেখানে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খবর পেয়েই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল ইমরান সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা জাবেদ ইকবালকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে উপস্থিত হন এবং ঘটনাস্থলে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শুরু করেন। এ সময় বাজারের ‘মায়ের দোয়া মৎস্য আড়তে’ রাখা চিংড়ি মাছগুলোতে সুকৌশলে ক্ষতিকর জেলি পুশ করার সত্যতা পাওয়া যায়।
ভোক্তা ঠকানোর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় মায়ের দোয়া মৎস্য আড়তের মালিক ও সাবেক কাউন্সিলর খবির উদ্দীনের বিরুদ্ধে মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০ এর ৩১ ধারায় ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে জব্দকৃত জেলি পুশ করা চিংড়ি মাছগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হওয়ায় তা সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে বিনষ্ট করা হয়।
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় চিংড়ি মাছের ওজন বৃদ্ধি করতে কৃত্রিম জেলি জাতীয় ক্ষতিকর পদার্থ পুশ করে থাকে। এটি যেমন সাধারণ ভোক্তাদের সঙ্গে এক ধরনের বড় প্রতারণা, তেমনি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। জনস্বার্থে ও বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এমন নজরদারি ও কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।