বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সরকারি গাছ চুরির মামলায় সাবেক মেয়রসহ ৫ জনের জামিন যশোরে বোমা হামলা ও নাশকতা মামলায় বাঘারপাড়ার ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেফতার। দোকানদারের ভুল কিটনাশকে বাঘারপাড়ায় দুই লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন! আবারও চিত্রা মডেল কলেজের সভাপতি শামীম আকতার বাঘারপাড়ায় অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির প্রলোভনে ১২ লাখ টাকা, মানব পাচার মামলায় কাইয়ুম আটক বাঘারপাড়া মহিলা কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নূরে আলম সোহাগকে সংবর্ধনা জুলাই আন্দোলন বিপ্লবীদের জন্য সহজ ছিল না ——–যশোর ৪ আসনের এমপি গোলাম রসুল বাঘারপাড়ায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা জুলাই স্মরণে বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির র‌্যালি ও আলোচনা সভা চিত্রা মডেল কলেজে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

শ্রীপুরের কাঁঠাল: সম্ভাবনার পাহাড়, সংকটেরও গল্প,আধুনিক সংরক্ষণাগার না থাকায় প্রতিবছর নষ্ট হয় বিপুল উৎপাদন

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
  • ১৫৫ বার পড়া হয়েছে

শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধি: জাতীয় ফল কাঁঠালের জন্য দেশের অন্যতম পরিচিত অঞ্চল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা। মৌসুম এলেই উপজেলার জৈনা বাজার পরিণত হয় কাঁঠালের বৃহৎ পাইকারি হাটে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকার, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বাজার। সারি সারি কাঁঠাল, দরদাম আর ট্রাকভর্তি ফল পরিবহনের ব্যস্ততায় জমে ওঠে কোটি টাকার এই মৌসুমি বাণিজ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসংলগ্ন জৈনা বাজারের দুই পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে শত শত কাঁঠাল। কোথাও চলছে বাছাই, কোথাও দাম নির্ধারণ, আবার কোথাও ট্রাক ও পিকআপে তোলা হচ্ছে ফল। কাঁঠালের মিষ্টি সুবাসে মুখর পুরো বাজার এলাকা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। গাছে গাছে বড় আকারের কাঁঠাল ধরেছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি কৃষকের লাভ।
মাওনা গ্রামের কাঁঠালচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, “এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে এসে সবসময় প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যায় না। উৎপাদনের পরও লাভের বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে।”
একই অভিযোগ মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামের কৃষক আল আমিনেরও। তিনি বলেন, “পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমে যাচ্ছে। বাজারে এসে অনেক সময় বাধ্য হয়ে কম দামে কাঁঠাল বিক্রি করতে হয়। কৃষকদের সরাসরি বিক্রির সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।”
শুধু স্থানীয় বাজার নয়, শ্রীপুরের কাঁঠালের কদর রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। সিলেট থেকে আসা পাইকার সুলতান আহমদ বলেন, “শ্রীপুরের কাঁঠাল আকারে বড় এবং স্বাদেও ভালো। তাই প্রতি বছর এখানে এসে কাঁঠাল কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করি।”
ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী ফরিদ হোসেন বলেন, “চাহিদা ভালো থাকলেও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত বিক্রি করতে হয়। পরিবহন খরচও অনেক বেড়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি বাড়ছে।”
স্থানীয়দের মতে, কাঁঠালের মৌসুমকে ঘিরে জৈনা বাজারে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, আড়তদার, ভ্যানচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ এ মৌসুমের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তবে আধুনিক সংরক্ষণাগার ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পের অভাবে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাঁঠাল নষ্ট হয়ে যায়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. বিজন মালাকার বলেন, “কাঁঠাল অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন একটি ফল। এতে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, পটাশিয়াম ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কাঁঠাল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।”
কৃষি বিভাগ বলছে, শ্রীপুরের কাঁঠালকে ঘিরে রয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, “কাঁঠাল এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজার সংযোগ উন্নয়নে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, কাঁঠালভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং রপ্তানিমুখী উদ্যোগ গড়ে তোলা গেলে শ্রীপুরের কাঁঠাল দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারে। একই সঙ্গে কৃষকরাও পাবেন তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য।
স্থানীয়দের ভাষায়, জৈনা বাজার শুধু একটি কাঁঠালের হাট নয়; এটি শ্রীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জীবিকার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাণকেন্দ্র। মৌসুমজুড়ে এখানকার কাঁঠালের বাণিজ্যই হয়ে ওঠে হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান ভরসা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট